Wednesday, 6 May, 2026
6 May
HomeকলকাতাBJP: বেনোজল রুখতে মরিয়া পদ্মফুল শিবির; বাম, তৃণমূল হয়ে এবার রামের দরজায়...

BJP: বেনোজল রুখতে মরিয়া পদ্মফুল শিবির; বাম, তৃণমূল হয়ে এবার রামের দরজায় মিরজাফরের দল!

বাংলায় যদি পুনরায় সেই সুবিধাবাদী ও স্বার্থান্বেষী মুখোশধারীই ক্ষমতার অলিন্দে ঘোরাফেরা করে।তবে 'সোনার বাংলা' গড়ার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

শুভজিৎ মিত্র,কলকাতা:

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পট পরিবর্তনের পর সপ্তাহ অতিক্রান্ত হতে চললেও,বাংলার রাজনৈতিক আকাশ থেকে এখনো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের কালো মেঘ সরেনি।দিকে দিকে এখনো রাজনৈতিক হানাহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে।তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শাসকদল বিজেপিতে যোগ দেওয়ার গণ-হিড়িক নিয়ে।বিগত নির্বাচনগুলিতে যারা তৃণমূল বা সিপিএম-এর সক্রিয় মুখ ছিলেন, আজ তাঁরাই গেরুয়া পতাকা হাতে নিতে মরিয়া। এই সকল আকস্মিক ভোলবদল নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এখন ‘সুবিধাবাদী’ ও ‘মিরজাফর’ তকমা নিয়ে তুমুল বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

আরও পড়ুনঃ মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে জল্পনার মাঝেই দিল্লিতে অগ্নিমিত্রা

বিজেপি সাজার হিড়িক!

নির্বাচনী ফলাফল স্পষ্ট হতেই কয়েকদিন আগেই তৃণমূলে থাকা একদল নেতা ও কর্মী দাবি করছেন যে,”তাঁরা নাকি দীর্ঘদিন ধরেই তলে তলে পরিবর্তনের পক্ষে ছিলেন এবং বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলতেন। “অথচ,কয়েক মাস আগেও এঁদেরই পরিবর্তনের বিরোধিতায় সরব হতে দেখা গিয়েছিল।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,’আদর্শ নয় বরং ক্ষমতার আস্বাদ পেতেই এই ‘নব্য বিজেপি‘ সাজার হিড়িক।’সাধারণ মানুষের একাংশের প্রশ্ন,যাঁরা বারবার দলবদল করে ক্ষমতা ভোগ করে এসেছে,তাঁদের যোগদান কি আদতে দলের ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করছে না?

বঙ্গ বিজেপির কড়া অবস্থান!

এদিকে এই বেনোজল রুখতে বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে,”আদর্শহীন কোনো সুযোগসন্ধানী বা সুবিধাবাদীকে আর দলে জায়গা দেওয়া হবে না।”এমনকি,রাজ্যজুড়ে চলা হিংসা নিয়েও দলের অবস্থান আপসহীন। নেতৃত্ব সাফ জানিয়েছেন,কোনো বিজেপি কর্মী বা সমর্থক যদি,আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় বা অশান্তিতে জড়িয়ে পড়ে,তবে প্রশাসন যেন বিন্দুমাত্র দয়া না দেখিয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।দল কোনোভাবেই অপরাধমূলক কাজকে প্রশ্রয় দেবে না।

আরও পড়ুনঃ ‘দম্ভের প্রতীক’ অভিষেকের বাড়ি থেকে স্ক্যানার মেশিনও তুলে নিয়ে গেল পুলিশ

স্থানীয় নেতৃত্বের গা-ছাড়া মনোভাব!

তবে শীর্ষ নেতৃত্বের এই কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও,গ্রাউন্ড জিরোর চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন।অভিযোগ উঠছে,’অনেক জায়গায় আঞ্চলিক বা জেলা স্তরের নেতারা নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে এই ‘সুবিধাবাদীদের‘ দলে টেনে নিচ্ছেন।’যাঁরা একসময় বাম এবং পরে ঘাসফুল শিবিরের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।তাঁদেরই এখন স্থানীয় নেতৃত্বের ছত্রছায়ায় বিজেপির মঞ্চে দেখা যাচ্ছে। এই দ্বিচারিতা আদি বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে।যা আসলে,দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সবশেষে,বাংলার মানুষ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এক নতুন ভোরের আশায় এই পরিবর্তন এনেছেন।কিন্তু সেই ‘পরিবর্তিত‘ বাংলায় যদি পুনরায় সেই সুবিধাবাদী ও স্বার্থান্বেষী মুখোশধারীই ক্ষমতার অলিন্দে ঘোরাফেরা করে।তবে ‘সোনার বাংলা‘ গড়ার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই মিরজাফরদের চিহ্নিত করে,এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়,তবে,নতুন সরকারের স্বচ্ছতা এবং সততা—দুই-ই প্রশ্নের মুখে পড়বে। বাংলার ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে,বর্তমান শাসকদল বিজেপির বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত ও চারিত্রিক দৃঢ়তার ওপর।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন