মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সোমবার প্রথম কাজের দিন ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। দিনভর নানা জরুরি বৈঠক, কাজ সেরে রাতে এক্স হ্যান্ডেলে বার্তা দিলেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সচিবদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ ক্ষমতায় এসেই সিন্ডিকেট উপড়ে ফেলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
তিনি বলেন, “ভয়হীন ভাবে কাজ করুন। যা হবে এই সরকারে সব লিখিত ভাবে কাজ হবে, কোনও মৌখিক নির্দেশে কাজ হবে না। যখন মনে করবেন আমার সময় নিয়ে চলে আসবেন। খুব জরুরি হলে সরাসরি চলে আসবেন।”
রাতে এক্সে শুভেন্দু অধিকারী তিনি লেখেন, ‘নবান্নে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম দিনেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল নতুন সরকার। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করে রাজ্যের ‘গৌরব পুনরুদ্ধার’-এর লক্ষ্যে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবার পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত-এর সুবিধা পাবেন।
সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য দ্রুত বিএসএফের হাতে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সেই কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনী ইস্তেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্য সরকারি চাকরির আবেদনকারীদের বয়সসীমা ৫ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, পূর্ববর্তী প্রশাসনের আমলে যাঁদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে সরকারিভাবে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং জনগণনার জন্যও ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, যাতে সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যায় বলে জানানো হয়েছে। নতুন সরকারের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে প্রাণ হারানো ৩২১টি পরিবারের কল্যাণে প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পিএম বিশ্বকর্মা, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা ও পিএম উজ্জ্বলা যোজনা-র মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে যাবতীয় বাধা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অয়ন শীলের অফিসের ডাস্টবিন থেকে পাওয়া চিরকুটের সূত্র ধরেই কি ইডির নজরে সুজিত বসু?
এদিন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন থেকে শুরু করে শীর্ষ আমলা ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক পর্যন্ত নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের বার্তা ছিল স্পষ্ট-এটি “জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য”, কোনও রাজনৈতিক দলের স্বার্থে পরিচালিত সরকার নয়। নতুন প্রশাসনের দাবি, রাজ্যে “আসল পরিবর্তন”-এর যুগ শুরু হয়েছে।’
জানা যাচ্ছে, বৈঠক চলাকালীন কয়েকটি দফতরের কাজ নিয়ে জানতেও চান শুভেন্দু। খাদ্য দফতরের সচিবের থেকে তিনি জানতে চান “আপনাদের কাল ওয়েবসাইট কেন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল?” এছাড়া সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য দফতরের সচিবের থেকেও দফতরের কাজ ও একাধিক বিষয়ে তিনি জানতে চান বলেই সূত্রের খবর। সূত্রের খবর, এদিন সচিবদের বৈঠক চলাকালীন শিক্ষা সচিবকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নিয়ম মেনে স্বচ্ছ ভাবে নিয়োগের কাজ করতে হবে।


