আটলান্টিক মহাসাগরের এক রহস্যময় স্থান ‘বারমুডা’। দশকের পর দশক ধরে জাহাজ ও বিমান নিখোঁজের অজস্র অতিপ্রাকৃতিক গল্প ও মিথ জড়িয়ে রয়েছে এই দ্বীপপুঞ্জকে ঘিরে। তবে কল্পবিজ্ঞান বা অলৌকিক গালগল্প নয়, এবার বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে বারমুডার আসল রহস্য উন্মোচিত হওয়ার দিকে অনেকটা এগিয়ে যাওয়া হল বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। বিজ্ঞানীরা এই দ্বীপের গভীরে এক বিশাল ও অভূতপূর্ব ভূ-তাত্ত্বিক কাঠামোর সন্ধান পেয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ “বেড নেই বলা চলবে না”; কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
ওয়াশিংটনের কার্নেগি সায়েন্সের সিসমোলজিস্ট ও প্রধান গবেষক উইলিয়াম ফ্রেজার এবং তাঁর দল এই চাঞ্চল্যকর আবিষ্কারটি করেছেন। তাঁদের গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, বারমুডা দ্বীপপুঞ্জের ঠিক নিচে, ভূপৃষ্ঠের গভীরে লুকিয়ে রয়েছে এক বিশালাকার পাথুরে স্তর, যা কোটি-কোটি বছর ধরে সেখানে টিকে রয়েছে।
সাধারণত সমুদ্রের তলদেশের ভূপ্রকৃতি বা ‘ওশেনিক ক্রাস্ট’ শেষ হলেই পৃথিবীর ম্যান্টল বা গুরুমণ্ডল শুরু হয়। এটিই স্বাভাবিক ভূ-তাত্ত্বিক নিয়ম। কিন্তু বারমুডার ক্ষেত্রে পরীক্ষা চালাতে গিয়ে গবেষকরা সম্পূর্ণ বিপরীত এবং চমকপ্রদ একটি চিত্র দেখতে পান।
বিজ্ঞানীরা অত্যাধুনিক সিসমিক ইমেজিং প্রযুক্তির সাহায্যে বারমুডার ভূগর্ভের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত স্ক্যান করেন। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে ঘটে যাওয়া শক্তিশালী ভূমিকম্পের কম্পন যখন এই দ্বীপের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল, তখন তার গতি ও আচরণের পরিবর্তন লক্ষ্য করেন গবেষকরা। এই ভূকম্পন তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বারমুডার ওশেনিক ক্রাস্ট এবং ম্যান্টলের ঠিক মাঝখানে প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২.৪ মাইল) পুরু একটি অতিরিক্ত পাথরের স্তর আটকে রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ রেস্তরাঁ নিজামে বিক্রি বন্ধ গো-মাংসের তৈরি সব পদ
ফ্রেজার সহজ ভাষায় এই আবিষ্কারের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, ‘বারমুডা গবেষণার জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান, কারণ এর বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ম্যান্টল প্লুমের মডেলের সঙ্গে মেলে না, যা গভীরের পদার্থকে ভূপৃষ্ঠে নিয়ে আসার একটি চিরায়ত পদ্ধতি। আমরা একটি পুরু আন্ডারপ্লেটিং পর্যবেক্ষণ করেছি, যা বেশিরভাগ ম্যান্টল প্লুমে দেখা যায় না। সাম্প্রতিক ভূ-রাসায়নিক পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে, এটি ইঙ্গিত দেয় যে পৃথিবীর ম্যান্টলের অভ্যন্তরে অন্যান্য পরিচলন প্রক্রিয়াও রয়েছে, যা এখনও ভালোভাবে বোঝা যায়নি।’
বারমুডা সত্যিই অনন্য, নাকি এটি কোনও বৃহত্তর ঘটনার প্রথম আবিষ্কৃত উদাহরণ মাত্র—তা নির্ধারণ করার জন্য ফ্রেজার এখন বিশ্বজুড়ে অন্যান্য দ্বীপের নিচে অনুরূপ বৈশিষ্ট্য খুঁজছেন।


