সময় বদলেছে, আর সেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গিয়েছে বীরভূমের চেনা রাজনৈতিক সমীকরণও। যে বীরভূমে একসময় তৃণমূলের ‘বেতাজ বাদশা’ অনুব্রত মণ্ডলের খাঁচায় বন্দি বাঘের মতো দাপট ছিল, যেখানে তাঁর মৌখিক নির্দেশেই চলত প্রশাসন, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন সেই অজেয় দুর্গে কার্যত ধস নামিয়ে দিল। রাজ্যে ২০৭টি আসন নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠনের পর, এবার খোদ কেষ্ট মণ্ডলের খাসতালুকেই দেখা গেল এক নজিরবিহীন দৃশ্য।
আরও পড়ুনঃ তোলাবাজি সংস্কৃতি খতম? মলয় ঘটকের ‘ঘনিষ্ঠ’ তৃণমূল নেতা রাজু পুলিশের জালে
বোলপুর পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ড, যেখানে অনুব্রত মণ্ডলের নিজের বাড়ি, সেখানেই তৃণমূল কংগ্রেসকে ১,৫০০ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে বিজেপি। অতীতে এই বীরভূমে বিরোধীদের দেওয়াল লিখন বা প্রচার করতেও যেখানে একশোবার ভাবতে হতো, সেখানে আজ অনুব্রতর বাড়ির সদর দরজার সামনে দিয়েই বুক ফুলিয়ে হেঁটে গেল গেরুয়া বাহিনী।
বিগত এক দশকে অনুব্রত মণ্ডল তাঁর স্বভাবসুলভ ও বিতর্কিত রাজনৈতিক সংলাপের জন্য রাজ্য রাজনীতিতে সবসময় চর্চায় থাকতেন। ভোট এলেই বিরোধীদের জন্য তাঁর দাওয়াই থাকত, “গুড়-বাতাসা খাওয়ানো” কিংবা “চড়াম চড়াম ঢাক বাজানো”। “পিসি চোর, ভাইপো চোর, শওকত তো মাছ চোর!”, বিজেপির বিজয় মিছিলের স্লোগান।
আরও পড়ুনঃ খোঁজ নেই তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের, ছেলে গ্রেফতার
এদিন যেন সেই ইতিহাসেরই এক অদ্ভুত পুনরাবৃত্তি ঘটল, তবে সম্পূর্ণ উল্টোভাবে। অনুব্রতর চেনা অস্ত্র ‘চড়াম চড়াম’ ঢাকের আওয়াজকে হাতিয়ার করেই তাঁর বাড়ির সামনে বিজয়োৎসব করল বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সেই সঙ্গে নিচুপট্টির আকাশে-বাতাসে আছড়ে পড়ল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করা তীব্র ঝাঁঝালো স্লোগান।
দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি যখন নবান্নের দখল নিয়েছে, তখন বোলপুরের এই চিত্রটি স্পষ্ট করে দিল, বীরভূমের বুক থেকে দীর্ঘদিনের চেনা ভয়ের রাজনীতি আপাতত বিদায় নিয়েছে।



