রাজ্যের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে উপভোক্তাদের যোগ্যতা পুনরায় খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রকল্পে প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতেই এই পুনরায় যাচাই বা রি-ভেরিফিকেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলা ও ব্লক স্তরে ইতিমধ্যেই সেই কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের আওতায় এমন অনেককে বাড়ি দেওয়া হয়েছে, যাঁরা অযোগ্য। তাঁরা এই প্রকল্পের লাভ পেয়েছে। এই আবহে সমস্ত উপভোক্তাদের যোগ্যতা যাচাই করার কাজ শুরু হবে। যদি দেখা যায়, কেউ অনৈতিক ভাবে প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে নির্দেশিকায়। এছাড়া ২০২৬ সালের এসআইআর-এর এএসডিডি (সন্দেহজনক, ডুপ্লিকেট বা অসঙ্গতিপূর্ণ) তালিকায় থাকা ব্যক্তিরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পেলে সেই পরিপ্রেক্ষিতে পদক্ষেপ করা হবে।
আরও পড়ুনঃ স্কুলের ইউনিফর্মেও দুর্নীতি? রিপোর্ট তলব মুখ্যমন্ত্রীর
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের অধীনে যারা যারা আবেদন জানিয়ে সুবিধা নিয়েছিলেন, তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই করা হবে। ব্লক, মহকুমা এবং জেলা স্তরের আধিকারিকদের নিয়ে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এই যাচাই প্রক্রিয়ার জন্য। প্রত্যেক গ্রাম পঞ্চায়েতে অন্তত একটি করে দল কাজ করবে। আবেদনকারীদের আধার কার্ড, ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের অ্যাকাউন্ট এবং মোবাইল নম্বরও ফের মিলিয়ে দেখা হবে। যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে বলেও জানানো হয়েছে। অ্যাপ কী ভাবে কাজ করে, তা বুঝিয়ে দিতে অতিরিক্ত জেলাশাসক, ডিএনও এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকও করেছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর।
প্রশাসনের দাবি, কোনও রকম ভুল বা অনিয়ম এড়াতেই এত কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদি কোনও দল যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গাফিলতি করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই যাচাই প্রক্রিয়ার ভিডিয়ো রেকর্ডিং এবং জিও-ট্যাগ করা ছবিও তোলা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
আরও পড়ুনঃ জেলে সুজিত, দুলছে মেসি, ভয়ে কাঁপছে লেকটাউনবাসী
যোগ্যতার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রাখা হয়েছে। যাঁদের পাকা বাড়ি রয়েছে, সরকারি চাকরিজীবী সদস্য আছেন, মাসিক আয় ১৫ হাজার টাকার বেশি, আয়কর দেন বা আগে অন্য কোনও আবাসন প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন— তাঁদের এই প্রকল্পের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। এছাড়াও জমির পরিমাণ এবং যানবাহনের মালিকানার বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে খসড়া তালিকা ব্লক ও জেলা প্রশাসনের দফতরে টাঙানো হবে। সাধারণ মানুষ আপত্তি বা অভিযোগ জানাতে পারবেন। পরে গ্রামসভা ও জেলা স্তরের কমিটির অনুমোদনের পরেই উপভোক্তাদের নাম চূড়ান্ত করা হবে।



