আফগান তালিবান প্রশাসন অভিযোগ করেছে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ফের আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে কুনার, খোস্ত এবং পাকতিকা প্রদেশে সাধারণের বসতি এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এই হামলায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১১ জন শিশু, একজন নারী এবং একজন বৃদ্ধ রয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ তেহরানে হামলা শুরু আমেরিকার, পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের
তালিবান সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলায় আরও ১৪ জন নারী ও শিশু আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আফগান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, লক্ষ্যবস্তু ছিল সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি, ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পর কাবুলের তরফে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আফগান প্রশাসন এই হামলাকে দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানিয়েছে।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অতীতেও সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির উপস্থিতি নিয়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদ প্রায়ই অভিযোগ করে যে, পাকিস্তানবিরোধী জঙ্গিরা আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা চালায়। অন্যদিকে কাবুল এমন অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। এই ঘটনার ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও তিক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা নিয়ে চলমান মতবিরোধের মধ্যেই নতুন করে এই হামলার অভিযোগ সামনে এল।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি ও আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যে ভয়াবহ সংঘর্ষ বেঁধেছিল, তার কেন্দ্রে ছিল ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)। পাকিস্তানের দাবি, টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে আফগান তালিবান। আর সেই সব জঙ্গি তারপর পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। এদিকে তালিবানের পালটা অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার এবং সেনা ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনকে সাহায্য করছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বাইতুল্লাহ মেহসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তানের ফেডারেল শাসিত উপজাতি এলাকার বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে একত্র করে টিটিপি গঠিত হয়। এই গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর জন্ম হয়েছিল। বর্তমানে টিটিপির মূল লক্ষ্য হল পাকিস্তানের সরকারকে সরিয়ে তাদের নিজস্ব মতাদর্শে একটি ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
আরও পড়ুনঃ বিশাল লাভ শিলিগুড়ির! ৯১৬ কোটির কাজে অনুমোদন রেলের
এই আবহে গত ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর মধ্যরাতের দিকে কাবুলের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর পাক সীমান্তে সেনা আউটপোস্টে পালটা হামলা চালায় আফগনরা। সেই হামলায় পাকিস্তানের ৫৮ সেনা জওয়ান নিহত বলে দাবি করে তালিবান। এদিকে পাক সেনা দাবি করে, তাদের ২৩ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। তারপর গত ১৪ অক্টোবর রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। তাতে কমপক্ষে ১৫ আফগান নাগরিক এবং পাকিস্তানি আধাসামরিক বাহিনীর ৬ জন নিহত হয়েছিল। পরে নভেম্বরের শুরুতেও ফের আফগানিস্তানের স্পিন বলডক অঞ্চলে পাকিস্তানের তরফ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল। সেই সংঘাত নতুন করে শুরু হয় ফেব্রুয়ারিতে। পরে মার্চ মাসে কাবুলের এক হাসপাতালে আছড়ে পড়ে পাকিস্তানি মিসাইল। এর জেরে মৃত্যু হয় অন্তত ৪০০ জনের।


