‘অপারেশন তৃণমূল’-এর নেপথ্যে কার হাত?
ভূপেন্দ্র নন! তাহলে বিজেপির কে?
তৃণমূল কংগ্রেসে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিদ্রোহী সাংসদদের বিজেপিতে যোগদান এবং দলবদলের নেপথ্যে কার ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে বাড়ছে জল্পনা।
আরও পড়ুনঃ আর্জেন্টিনার মানুষ, ডাক্তার; সামনে শুধু … ‘চে’
প্রথমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের নাম সামনে এলেও, এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের বিজেপি সাংসদ সিএম রমেশ।
এক সাক্ষাৎকারে সিএম রমেশ দাবি করেছেন, তৃণমূলের একাধিক সাংসদের সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি বলেন, মানুষকে রাজি করানো তাঁর বিশেষ দক্ষতা এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যে কোনও রাজনৈতিক নেতাকে দলবদলে সম্মত করাতে পারেন।
রমেশের দাবি, সংসদের ক্যান্টিন ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল তাঁর। সেই ব্যক্তিগত যোগাযোগই পরবর্তীতে রাজনৈতিক আলোচনার পথ খুলে দেয়।
তিনি আরও জানান, তাঁর ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানেও বিভিন্ন দলের সাংসদদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই সূত্রে বহু নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।
তবে তৃণমূলের তরফে এই দাবিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ অনেকেই। দলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র সিএম রমেশের বক্তব্যকে ‘আত্মপ্রচার’ বলেই উল্লেখ করেছেন।
মহুয়ার বক্তব্য, রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় থাকতে অনেকেই বড় বড় দাবি করেন। বাস্তবে দলের ভাঙন বা রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের পেছনে একক কোনও ব্যক্তির ভূমিকা থাকে না।
আরও পড়ুনঃ ইন্ডি জোটের পিন্ডি গেল চটকে! বিজয়ন ইস্যুতে রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ সিপিএমের
অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ দাবি করেছেন, পুরো ঘটনার নেপথ্যে ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের ভূমিকা ছিল। যদিও সেই অভিযোগ নিয়ে এখনও রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভূপেন্দ্র যাদব, শুভেন্দু অধিকারী এবং সিএম রমেশ— একাধিক নেতার সমন্বিত প্রচেষ্টাতেই এই রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তবে কে ছিলেন মূল কারিগর, তা নিয়ে এখনও চলছে জোর জল্পনা।
ফলে ‘অপারেশন তৃণমূল’-এর প্রকৃত নেপথ্য নায়ক কে, তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


