আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুন মামলার তদন্তে ফের সক্রিয় হল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সোমবার সকালে সাত সদস্যের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পৌঁছে তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা শুরু করে। তদন্ত-সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
হাসপাতালে পৌঁছেই সিবিআই আধিকারিকরা মেডিক্যাল সুপার ও ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডাঃ সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, হাসপাতালের প্রশাসনিক নথিপত্র এবং তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি এই মামলার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) এক সদস্যকে বদলি করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সিবিআইয়ের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট মহল। তদন্তের বিভিন্ন দিক নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় এক তরুণী চিকিৎসকের রহস্যমৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পর রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ সামনে এলে চিকিৎসক সমাজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তদন্ত চলাকালীন সিবিআই একাধিক হাসপাতাল কর্মী, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বয়ান রেকর্ড করেছে। সংগ্রহ করা হয়েছে ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও। তবে তদন্তে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ার অভিযোগ বারবার তুলেছেন নির্যাতিতার পরিবার। তাঁদের দাবি, ঘটনার প্রকৃত সত্য এখনও সামনে আসেনি।
আরও পড়ুনঃ সুমিতের বিরুদ্ধে জারি গ্রেফতারি পরোয়ানা
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই মামলাকে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও প্রকাশ্যে দ্রুত বিচার ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পক্ষে সওয়াল করেছেন। এরই মধ্যে রবিবার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, আরজি কর মামলার ফাইল পুনরায় সক্রিয় করা হচ্ছে এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলির কাছে প্রয়োজনীয় নথি পাঠানো হবে। সিবিআই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের উদ্দেশ্য বা তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কিছু জানায়নি। তবে সোমবারের এই হাসপাতাল পরিদর্শনের পর মামলার তদন্তে নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।


