গতকাল ফলতা থানায় ধৃত তৃণমূল নেতার স্ত্রীর নেতৃত্বে জমায়েত হয়। অভিযোগ, জাহাঙ্গিরকে থানা থেকে ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেলা পুলিশের সুপারকে তিনি দেশবিরোধী কার্যকলাপ বিরোধী আইনে মামলা রুজু করতে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কথাও বলেছেন।
আরও পড়ুনঃ সরকারি হাসপাতালের জন্য কোটি-কোটি টাকা তুলেছিলেন ‘দিনহাটার লজ্জা’ উদয়ন
তৃণমূল জমানায় তথাকথিত ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেলকে নৈরাজ্যের মডেল বলে কটাক্ষ করেছিলেন তৎকালীন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পালাবদল হয়েছে। ফলতার ‘পুষ্পা’ তথা জাহাঙ্গির খানকে নেপাল সীমান্ত থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে গতকাল ফলতা থানায় বাইরের জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর নেতৃত্বে বিপুল জমায়েত হয়। অভিযোগ, তাঁরা ফলতা থানায় হামলা করার চেষ্টা করেছে। তা নিয়ে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পুলিশের সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন, ভিডিয়োতে যাদেরকে দেখা গিয়েছে, তাঁরা যেন বাড়িতে না থাকেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কার্যকলাপ বিরোধী আইনে মামলা রুজু করতে হবে। শুধু তা-ই নয়, অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও বার্তা জেলা প্রশাসনকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ পানিহাটি শ্মশানে CBI; আরজি কর-কাণ্ডে নয়া মোড়
ঘটনাচক্রে এ দিন ফলতায় জনকল্যাণ শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিনের সভাতে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “যতবড় মাফিয়া ডন আছে না কেন, বিজেপির সরকার তাদের সবক শেখানোর কাজ করবে। টিভিতে দেখছিলাম, কিছু লোক মাফিয়ার (জাহাঙ্গির খান) স্ত্রীর নেতৃত্বে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপরে হামলা করতে গিয়েছিলেন।” এর পরেই তিনি বলেন, “পুলিশমন্ত্রী হিসেবে আমি নির্দেশ দিচ্ছি, নির্দিষ্ট ধারা প্রয়োগ করে এমন শিক্ষা দিন, এমন শিক্ষা দিন, যাতে কোনও সরকারি কর্মী বা পুলিশ কর্মী, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আক্রমণ করার সাহস আর না পায়।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু জেলের ভাত খাওয়া নয়। যাঁরা এই কাজ করেছে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কাজও এই ডবল ইঞ্জিন সরকার করবে।” আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করাই যে সরকারের মূল লক্ষ্য তা-ও বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।


