Thursday, 18 June, 2026
18 June
HomeকলকাতাKumortuli: মাটির সংকটে হাহাকার, দুশ্চিন্তায় কুমোরটুলি

Kumortuli: মাটির সংকটে হাহাকার, দুশ্চিন্তায় কুমোরটুলি

পুজোর মরসুম ধরে বছরে অন্তত ৫০০ লরি মাটি লাগে কুমোরটুলিতে। পুজোর চার-পাঁচ মাস আগে থেকে পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। এ বার কিছুই করা যায়নি। পাওয়া যাচ্ছে না মাটি!

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

দুর্গাপুজোর আর মাস কয়েক বাকি। কিন্তু উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কুমারটুলিতে (Kumartuli )এখন শুধু উদ্বেগ আর হতাশার ছায়া। প্রতিমা শিল্পীরা মাটির তীব্র সংকটে পড়েছেন। মাটি না পেলে কীভাবে প্রতিমা গড়বেন এই চিন্তায় অনেকের রাতের ঘুম উড়ে গেছে। বিশেষ করে পদ্মশ্রী সম্মানিত প্রবীণ শিল্পী সনাতন রুদ্র পাল সরকারের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ মাত্র ৪০ দিনের জল মজুত, ভয়ঙ্কর অবস্থা! জল সঙ্কটের মুখে মুম্বই?

কুমারটুলির অলিগলিতে ঘুরলে এখন শুধু একটাই আর্তি শোনা যায় মাটি চাই। প্রতি বছর এই সময়ে শিল্পীরা মাটির স্তূপ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু এবার পর্যাপ্ত মাটি আসছে না। যে সামান্য মাটি পাওয়া যাচ্ছে, তার দামও আকাশছোঁয়া। ফলে ছোট-বড় সব প্রতিমা শিল্পীরাই চরম সংকটে পড়েছেন। অনেকে বলছেন, “যদি সময়মতো মাটি না পাই, তাহলে এবারের পুজোয় আমাদের হাতের কাজই থেমে যাবে।” পদ্মশ্রী সনাতন রুদ্র পাল, যিনি কুমারটুলির গর্ব এবং প্রতিমা শিল্পের জীবন্ত কিংবদন্তি, সরাসরি সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের শিল্পীরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। কিন্তু মাটির অভাবে সবকিছু আটকে যাচ্ছে। আমি সব মন্ত্রীদের কাছে অনুরোধ করছি, দয়া করে এই বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করুন। না হলে পুরো কুমারটুলির শিল্পই বিপদে পড়বে।” এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে এই সমস্যার কথা জানতে পেরে ডায়মন্ড হারবারের বিডিও-কে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

কিন্তু শিল্পীদের অভিযোগ, সেখান থেকে এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মাটি সরবরাহের জন্য যে জমি বা খনির অনুমতি দরকার, তা এখনও আটকে আছে। ফলে সংকট ক্রমশ গভীর হচ্ছে।কুমারটুলির শিল্পীরা জানান, ভালো মাটি না পেলে প্রতিমার গড়ন ঠিক হয় না, ফাটল ধরে, রংও ধরে না। এতে শুধু তাদের আয়-রোজগারই নয়, কলকাতার দুর্গাপুজোর সুনামও নষ্ট হয়।

আরও পরুনঃ মাথায় হাত আমজনতার! হঠাৎ সাবস্ক্রিপশন চালু করল মেটা

অনেক শিল্পী পরিবার এই কাজের ওপরই নির্ভরশীল। বছরের এই সময়টায় তাদের সবচেয়ে বেশি উপার্জন হয়। কিন্তু মাটি না থাকায় এখন অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে। কেউ কেউ অন্য জেলা থেকে মাটি আনার চেষ্টা করছেন, কিন্তু পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।স্থানীয় শিল্পী সংগঠনের নেতারা বলছেন, “এটা শুধু একটা শিল্পের সমস্যা নয়, এটা বাঙালির সংস্কৃতির সমস্যা।

দুর্গাপুজো বাংলার প্রাণ। কুমারটুলি তার হৃদয়। যদি সরকার এখনই না এগোয়, তাহলে অনেক ছোট প্রতিমাশিল্পী হয়তো এবার কাজই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।” অনেকে মনে করছেন, মাটি সংকটের পেছনে প্রশাসনিক গাফিলতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। ডায়মন্ড হারবার ও আশেপাশের এলাকা থেকে মাটি সরবরাহের অনুমতি দ্রুত দেওয়া দরকার। পাশাপাশি মাটির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ করে সরবরাহের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা করার দাবিও উঠেছে।

 

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন