ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউস তথা সিইএসসি দফতরের চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় আগামী ৬০ দিনের জন্য সমস্ত ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল এবং জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল কলকাতা পুলিশ। এমনিতেই একুশে জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’ সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে রীতিমতো জলঘোলা চলছে। ঠিক তখনই বড় পদক্ষেপ করল লালবাজার। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS), ২০২৩-এর ১৬৩ নম্বর ধারা (অতীতে ১৪৪ ধারা) জারি করা হল।
আরও পড়ুনঃ আসল নকল দুই শিবিরের ‘জমি’-যুদ্ধে ইতি! ২১ জুলাইয়ের সভার অনুমতি আর পুরনো জায়গায় নয়; জানাল পুলিশ
মঙ্গলবার কলকাতা পুলিশের নগরপাল (CP) অজয় নন্দ এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। লালবাজার সূত্রে খবর, আগামী ২ জুলাই থেকে এই নির্দেশিকা কার্যকর হবে। আগামী ৩০ অগাস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। পুলিশের এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ২১ জুলাই TMC-র মেগা সমাবেশ কার্যত অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়াল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এবার বড়সড় আইনি ও রাজনৈতিক বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে।
পুলিশের নোটিশে ঠিক কোন কোন এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা থাকবে, তা উল্লেখ করা হয়েছে। বউবাজার থানা, হেয়ার স্ট্রিট থানা এবং হেডকোয়ার্টার্স ট্রাফিক গার্ডের আওতাধীন সিআর অ্যাভিনিউয়ের কেসি দাস ক্রসিং থেকে শুরু করে ওয়াই চ্যানেল, ভিক্টোরিয়া হাউস এবং তার আশেপাশের সমস্ত কানেক্টিং রাস্তায় ৫ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে শুধুমাত্র বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই ৬০ দিন উল্লেখিত এলাকার মধ্যে কোনও রাজনৈতিক দল বা সংগঠন কোনও ধরনের ধর্ণা, পদযাত্রা, জনসভা করতে পারবে না। এমনকি লাঠি বা কোনও ধরনের অস্ত্র নিয়ে চলাচল করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গোয়েন্দা সূত্রে বেশ কিছু ইনপুট বা তথ্য মিলেছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই নির্দিষ্ট এলাকায় বেআইনি জমায়েত বা বিশৃঙ্খলার জেরে শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হতে পারে। পাশাপাশি মধ্য কলকাতার প্রধান বাণিজ্যিক অঞ্চলের যান চলাচল ও জনজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই আপদকালীন পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করেই তড়িঘড়ি এই Ex-parte নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছে প্রশাসন।
আরও পড়ুনঃ অঙ্কটা কী কঠিন! অঙ্ক শিখতে থলি হাতে বাজারে পড়ুয়ারা
উল্লেখ্য, নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে সেখানে স্পষ্ট লেখা হয়েছে, ভিক্টোরিয়া হাউস বা কেসি দাস ক্রসিংয়ের সামনে কোনও জনসভা বা মিছিলের অনুমতি দেওয়া হবে না। নিয়ম লঙ্ঘন করলে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
ভিক্টোরিয়া হাউসের এই চত্বরেই প্রতি বছর তৃণমূল কংগ্রেসের ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস সমাবেশের মূল মঞ্চ করা হয়। পুলিশের এই ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়সীমার (২ জুলাই থেকে ৩০ অগাস্ট) মধ্যেই ২১ জুলাই দিনটি পড়ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এবার TMC-কে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চের স্থান পরিবর্তন করতে হবে?


