মাইনুল ইসলাম রাজু, বাংলাদেশ, আমতলী (বরগুনা):
ঢাকা থেকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সূত্রে খবর, বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণে শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, রাজনৈতিক অন্দরে পদত্যাগ ও উত্তরসূরির নাম নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুনঃ দেশজুড়ে অশান্তি ‘ককরোচে’র? রাজ্যগুলিকে বিশেষ নির্দেশের পথে কেন্দ্র
সরকারি ও বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের ব্যাপারে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই বার্তা দিয়েছে। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে দলটির মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব পাচ্ছে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এক সচিবের নাম, যিনি প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থার কারণে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। বিএনপির সিনিয়র নেতারা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নামও আলোচনায় থাকলেও তাঁরা পদত্যাগ বা মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নিজেদের নাম জানাতে অনিচ্ছুক।
বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। পদত্যাগ হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে। বর্তমান সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার কারণে তাদের মনোনীত প্রার্থী রাষ্ট্রপতি হবার সম্ভাবনা বেশি।
রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে। তবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসার পরও তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন রাষ্ট্রপতির সামনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই প্রধান কাজ হবে। এজন্য প্রশাসনিক দক্ষতা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করতে সক্ষম ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতির পদে বসানো হতে পারে।
বাংলাদেশে এই পদত্যাগ ও পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হচ্ছে।


