কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
মালদার ইংরেজবাজারের এক দলিত দম্পতির ওপর চড়া সুদে টাকা নেওয়ার পর সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় অমানবিক অত্যাচার চালানোর, খুনের হুমকি দেওয়ার এবং বাড়িছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা অমরদীপ সাহা ও সঞ্জিত সাহা সহ তিনজনের বিরুদ্ধে দলিত দম্পতি দুই মাস আগে ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ ‘শুক্রবারিরা চিহ্নিত’, সাংবাদিক নিগ্রহে কড়া শুভেন্দু
দলিত দম্পতি রামা মেথর ও পিঙ্কি মেথর, যারা ইংরেজবাজার পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের অরবিন্দ কলোনি এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় সাফাই কর্মী, জানিয়েছেন যে ২০২১ সালে তারা ৩০ হাজার টাকা সুদে নিয়েছিলেন দক্ষিণ বালুচর এলাকার সুদ ব্যবসায়ী ও তৃণমূল নেতা অমরদীপ সাহার কাছ থেকে। প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা সুদ দিতে হতো, কিন্তু অসুস্থতার কারণে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে তারা সুদের টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। এরপর থেকেই শুরু হয় তাদের ওপর অত্যাচার।
অত্যাচারকারীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার হুমকি দিয়েছে এবং পিঙ্কি মেথর ও তার নাবালিকা সন্তানের ওপর খুনের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। তাদের স্বামী রামা মেথরকেও মারধর করা হয়েছে। এই সব অত্যাচারের কারণে দলিত দম্পতি বর্তমানে বাড়ি ছাড়া হয়ে রয়েছেন।
গত মে মাসে তারা ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু অভিযোগের পরও পুলিশ থেকে কোনও সহায়তা পাননি। পিঙ্কি মেথর জানান, “তৃণমূল শাসনকালে অমরদীপ সাহা সুদের টাকা না দেওয়ার কারণে আমাকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়েছে। আমার স্বামী তিন মাস আগে এসিড খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এখন রাস্তায়ও আমাদের ওপর হুমকি চলছেই।”
আরও পড়ুনঃ ‘হ্যালো ফ্রেন্ডস, থ্যাঙ্ক ইউ ফ্রেন্ডস্’; মাঝরাতে ফের প্রধানমন্ত্রীর বার্তা ‘জেন জ়ি’-কে
অমরদীপ সাহা ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ থাকলেও চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে কোনও সহযোগিতা পায়নি দম্পতি। পরিস্থিতি নিয়ে তারা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিং-কে লিখিত চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অভিযুক্ত অমরদীপ সাহার মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, বিজেপির দক্ষিণ মালদার সাংগঠনিক সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূল শাসনে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, রাহাজানি বেড়ে গেছে। আমরা পুলিশের কাছে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।”
ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, “কি ঘটেছে বলতে পারব না, তবে অন্যায় হলে পুলিশ ও প্রশাসন আছে।”
মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিং নিশ্চিত করেছেন, “অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনাটি রাজ্যে দলিত সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং সুদের ব্যবসার অবৈধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নতুন ইঙ্গিত তুলে ধরেছে।


