দক্ষিণবঙ্গের দরজায় কড়া নাড়ছে ক্রান্তীয় ঝড়
মাতলা নদীর মোহনায় অবস্থান করছে অতি গভীর নিম্নচাপ, যা ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে দক্ষিণবঙ্গ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে।
বর্তমান অবস্থান: কলকাতা থেকে প্রায় ১৬৫ কিমি দক্ষিণ-পূর্ব, কন্টাই থেকে ১০৯ কিমি পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে, সাগরদ্বীপ থেকে ৮১ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে
নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারপাশে একটানা ৫৫–৬৫ কিমি/ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর অত্যন্ত উত্তাল রয়েছে এবং মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সম্ভাব্য স্থলভাগ অতিক্রমের সময়: আজ সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে সাগরদ্বীপ সংলগ্ন এলাকা ছুঁয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের কন্টাই উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
সম্ভাব্য প্রভাব:
দক্ষিণ ২৪ পরগনা
পূর্ব মেদিনীপুর
পশ্চিম মেদিনীপুর
ঝাড়গ্রাম
উপরোক্ত জেলাগুলিতে অতিভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত, পাশাপাশি ঘণ্টায় ৫০–৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিচু এলাকা ও উপকূলবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যের স্কুল শিক্ষায় নতুন পরিবর্তনের ঘোষণা, বায়োমেট্রিক উপস্থিতি চালু করবে সরকার
প্রবল দুর্যোগের সতর্কতা: পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে
অতি গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য অবনতি হতে চলেছে।
সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা (১০০%)
পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম
ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা।
ঘণ্টায় ৫০–৬০ কিমি বা তারও বেশি বেগে দমকা থেকে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। উপকূলবর্তী ও নিচু এলাকায় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা (৭৫%)
হাওড়া ও হুগলি
মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা।
মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা (৫০%)
কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া
হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
দমকা হাওয়ার বেগ ৪০–৫০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
আরও পড়ুনঃ আরশোলা কি অতীত! ককরোচের পর এবার আসছে E20 জনতা পার্টি
কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা (২৫%)
বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমান
বিক্ষিপ্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ৩০–৪০ কিমি/ঘণ্টা বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা।
সতর্ক থাকুন
অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলুন।
উপকূল ও নদী সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন।
বড় গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও দুর্বল কাঠামোর কাছ থেকে দূরে থাকুন।
স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলুন।


