রাজীব হালদার, নয়াদিল্লি:
দিল্লির যন্তর-মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলন সফলভাবে শেষ হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর এই সাফল্যকে তরুণ সমাজের বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর এই গোটা আন্দোলনের মধ্যমণি তথা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এখন সংবাদের শিরোনামে।
আরও পড়ুনঃ আরশোলার উৎপাতে কলকাতার বুকে জাতীয় পতাকা হাতে বিজেপির প্রতিবাদ মিছিল
দীর্ঘ আন্দোলন শেষে সাফল্য মিলতেই এক সাক্ষাৎকারে নিজের আনন্দের কথা ব্যক্ত করেছেন অভিজিৎ দীপকের বাবা-মা। কথা প্রসঙ্গে অভিজিতের বিয়ের বিষয়টি উঠতেই হেসে তাঁর মা জানান, আন্দোলনের সাফল্যের পর থেকেই ছেলের বিয়ের জন্য অসংখ্য ফোন ও প্রস্তাব আসতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, “আগেও প্রস্তাব আসত, তবে এখন সংখ্যাটা অনেক বেড়ে গিয়েছে। সময় এলে বিয়ে হবে, আগে ওকে এই ব্যস্ততা থেকে বেরোতে দিন।”
বউমা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে অভিজিতের মা বলেন, আগে সাধারণ ও শান্ত স্বভাবের মেয়ে পছন্দের কথা ভাবলেও এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “অভিজিৎ জীবনের যে জায়গায় রয়েছে, নিজের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাঁর নিজেরই। আজকের প্রজন্ম নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেয়। ও যাকে বেছে নেবে, আমরা সর্বান্তকরণে তাকে সমর্থন করব।”
আরও পড়ুনঃ যন্তর মন্তর থেকে পাঞ্জাব; রাজনৈতিক অঙ্ক বদলে দিতে পারে কি ককরোচ জনতা পার্টি?
অন্য দিকে, আন্দোলন জয়ের পর সিজেপি রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত হবে কি না বা অভিজিৎ রাজনীতিতে আসবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এ বিষয়ে তাঁর মা জানান, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখনও পরিবারকে কিছু জানাননি অভিজিৎ, তবে তিনি যে পথেই হাঁটুন না কেন, পরিবার সর্বদাই তাঁর পাশে থাকবে।
উল্লেখ্য, আন্দোলনের সাফল্য অর্জনের পর যন্তর-মন্তরে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে বলেন, “অনেকে বলতেন এই সরকারে কেউ ইস্তফা দেয় না। আমরা বলি, দুনিয়ায় সবাই নত হয়, তবে তাকে নত করানোর মতো মানুষ দরকার।”
একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ডের ‘ককরোচ’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে অভিজিৎ বলেন, “আমাদের ‘ককরোচ’ বলে কটাক্ষ না করা হলে হয়তো আমি ভারতে ফিরতাম না, দেশের যুবসমাজও রাস্তায় নামত না এবং শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফাও হতো না।”


