বেবি পাউডারে ক্যানসারের জীবাণু বা উপাদান থাকার অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা অবসানে বড় পদক্ষেপ নিল বিশ্বখ্যাত প্রসাধন প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘জনসন অ্যান্ড জনসন’। আমেরিকাজুড়ে দায়ের হওয়া হাজার হাজার মামলার নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সংস্থাটি ৫৫০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা) দিতে রাজি হয়েছে। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে সংস্থার তরফে এই আর্থিক সমঝোতার ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুনঃ ভয়ঙ্কর বন্যার কবলে মৃত্যু মিছিল অসমে, তিন লক্ষের বেশি মানুষ ঘরছাড়া
সমঝোতার পরিধি ও মামলার চিত্র: সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে আমেরিকার বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন প্রায় ৬৯ হাজার মামলার নিষ্পত্তি ঘটে যাবে। এর ফলে সে দেশে সংস্থাটির বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা প্রায় ৯৯.৭৫ শতাংশ মামলা থেকে রেহাই মিলবে।
-
বিতর্কের কেন্দ্রে ‘ট্যাল্ক’: জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডারের প্রধান উপাদান ছিল খনিজ পদার্থ ‘ট্যাল্ক’ (Talc)। অভিযোগে বলা হয়, এই উপাদানে ক্যানসার সৃষ্টিকারী অ্যাসবেস্টসের উপস্থিতি রয়েছে। ২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-ও এই খনিজটিকে মানুষের জন্য সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করে।
-
পণ্য প্রত্যাহার: তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে ২০২০ সালে আমেরিকা ও কানাডায় এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে ট্যালক ভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় সংস্থাটি।
আরও পড়ুনঃ শেষ দাদাগিরির দিন; ৭২ নম্বর রুটে বাসে তাণ্ডব চালিয়ে গণপিটুনির মুখে দুষ্কৃতী
আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট: ট্যালকম পাউডার ব্যবহারের ফলে ক্যানসারের বিষয়টি প্রথম আলোড়ন সৃষ্টি করে ২০১৬ সালে, যখন ডিম্বাশয়ের (Ovarian) ক্যানসারে এক মহিলার মৃত্যুর পর আদালত বিপুল অংকের ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে আমেরিকাজুড়ে একের পর এক মামলা দায়ের হতে থাকে।
সর্বশেষ ঘটনাপ্রবাহে উঠে আসে যে, সংস্থা নাকি আগে থেকেই জানত যে তাদের এই পণ্য ডিম্বাশয়ের ক্যানসার ও ‘মেসোথেলিওমা’-র মতো প্রাণঘাতী রোগের কারণ হতে পারে, তা সত্ত্বেও তারা বিক্রি চালু রেখেছিল। যদিও শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে সংস্থার দাবি, ট্যাল্ক ব্যবহারের সঙ্গে ক্যানসারের সরাসরি কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
সংস্থার বক্তব্য: জনসন অ্যান্ড জনসনের মামলাবিষয়ক প্রধান এরিক হাস জানিয়েছেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের একটি ইতিবাচক নিষ্পত্তি ঘটানো সম্ভব হবে এবং সংস্থা নতুন করে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে নতুন করে দায়ের হওয়া কিছু মামলা এই সমঝোতার আওতাভুক্ত থাকবে না বলে জানা গিয়েছে।


