সাহারসা (বিহার):
মধ্যরাতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে হঠাৎই দাউদাউ করে জ্বলে উঠল আগুনের লেলিহান শিখা। চোখের নিমেষে পুড়ে ছাই হয়ে গেল ট্রেনের ইঞ্জিন ও তার পেছনের বেশ কয়েকটি কামরা। রবিবার গভীর রাতে বিহারের সাহারসা জেলার সিমরি-বখতিয়ারপুর রেল স্টেশনে ঘটে গেল এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। তবে ভাগ্যক্রমে যাত্রীরা সময়মতো হুড়োহুড়ি করে ট্রেন থেকে নেমে পড়তে পারায় বড়সড় প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও আতঙ্কের মুহূর্ত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সমস্তিপুর-সাহারসা প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি (ট্রেন নম্বর: ৬৩৩৪৪০) সিমরি-বখতিয়ারপুর স্টেশনে দাঁড়িয়েছিল। ট্রেনের ভেতরে বেশ কিছু যাত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
-
আগুনের সূচনা: রাত ৩টে থেকে ৩টে ৪০ মিনিটের মধ্যে হঠাৎই ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া ও আগুন বের হতে দেখা যায়।
-
আতঙ্ক ও চিৎকার: মুহূর্তের মধ্যে আগুন ট্রেনের পেছনের কামরাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। বগিগুলিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই হুড়োহুড়ি করে প্ল্যাটফর্মে নেমে প্রাণ বাঁচান।
আরও পড়ুনঃ কাকভোরে ভূমধ্যসাগরে জোরালো ভূমিকম্প: মিশরসহ লেবানন ও সিরিয়ায় আতঙ্ক, কম্পন সুয়েজ খাল এলাকাতেও
দমকলের তৎপরতা ও অগ্নিনির্বাপণ
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই সাহারসা ফায়ার স্টেশন থেকে দ্রুত দমকলের দুটি বিশেষ ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
সাহারসার ফায়ার অফিসার নিরঞ্জন কুমার জানান:
“আমরা খবর পাই যে একটি রেল ইঞ্জিনে আগুন লেগেছে। খবর পাওয়ামাত্রই সাহারসা ফায়ার স্টেশন থেকে একটি ফোম টেন্ডার (Foam Tender) এবং একটি ওয়াটার টেন্ডার ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। কয়েক ঘণ্টার টানা চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আগুনে বগি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হলেও আনন্দের বিষয় কোনো যাত্রী আহত বা নিহত হননি।”
যাত্রীদের ভোগান্তি ও ক্ষোভ
আগুনে কোনো প্রাণহানি না হলেও রাতদুপুরে এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার হতে হয় নিত্যযাত্রীদের। সাহারসাগামী এক আটকে পড়া যাত্রী জানান, ভোররাত ৩টে ৪০ মিনিট থেকে তাঁরা স্টেশনে আটকে রয়েছেন। ট্রেন চলাচল ও যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় গত কয়েক ঘণ্টা ধরে শত শত যাত্রীকে চরম চরম অসুবিধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
কীভাবে বা কী উৎস থেকে হঠাৎ ট্রেনের ইঞ্জিনে এই ভয়াবহ আগুন লাগল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ও কারিগরি দল তদন্ত শুরু করেছে।


