বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজ্যজুড়ে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র তিন হাজার টাকার ভাতা না পাওয়া নিয়ে শুরু হওয়া নারী বিক্ষোভের জল গড়াল চরম রাজনৈতিক বাকযুদ্ধে। ক্ষোভে ফুটতে থাকা আবেদনকারীদের শান্ত করতে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও সুকান্ত মজুমদাররা যেখানে ধৈর্য ধরার আবেদন করছেন, ঠিক তখনই বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল।
‘অভ্যাস খারাপ করে দিয়েছে তৃণমূল’: দিলীপ ঘোষ
অন্নপূর্ণা যোজনার নাম বাদ পড়া এবং ভাতা না পাওয়ার অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন বিডিও ও জেলাশাসকের দফতরে যখন বিক্ষোভ চলছে, তখন সংবাদমাধ্যমের সামনে দিলীপ ঘোষ বলেন:
“যে ভাবে মুড়ি-মুড়কির মতো মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়া হয়েছে, তাতে অভ্যাস খারাপ হয়ে গেছে। সব সুবিধা সবার জন্য নয়। কেন্দ্র ও রাজ্যের নানা প্রকল্পের একটা সীমা এবং নির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়া আছে। দান মনে করে সবাই পাবেন—এটা হবে না। তৃণমূলই এই অভ্যাস খারাপ করে দিয়েছে।“
পার্থক্য স্পষ্ট করে তিনি জানান, সরকারি সহায়তার একটি নির্দিষ্ট রূপরেখা থাকে, যা সবার ওপর ঢালাওভাবে প্রয়োগ করা যায় না।
আরও পড়ুনঃ ১০ অক্টোবরের ডেডলাইন, গ্রামের রাস্তা মেরামতে কড়া বার্তা নবান্নর; কলকাতার অলিগলির কি হবে?
অগ্নিমিত্রা পালের হস্তক্ষেপ ও বিক্ষোভের চিত্র
-
মেদিনীপুরে উত্তেজনা: পশ্চিম মেদিনীপুরে জেলাশাসকের ভবনে বৈঠক চলাকালীন ক্ষুব্ধ মহিলারা ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বৈঠক মুলতুবি রেখে নিচে নেমে আসেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
-
দফতরে চক্কর ও হয়রানি: বঞ্চিত মহিলারা অভিযোগ জানান, কোনো ভাতার টাকাই তাঁদের অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। উপরন্তু কাগজপত্রের ভুলের অজুহাতে তাঁদের এসডিও অফিস থেকে পুরসভা এবং পুরসভা থেকে এসডিও অফিসে ঘুরিয়ে মারা হচ্ছে।
-
নোডাল অফিসার নিয়োগের নির্দেশ: সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি শুনে মন্ত্রী অবিলম্বে পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জেলাশাসককে একজন ‘নোডাল অফিসার’ নিয়োগের নির্দেশ দেন এবং ১০০ দিনের নতুন সরকারের সময়সীমার কথা উল্লেখ করে কিছুটা সময় চান।
একদিকে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও হয়রানির অভিযোগ, আর অন্যদিকে দিলীপ ঘোষের এই বিতর্কিত মন্তব্য—সব মিলিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা রূপায়ণ ঘিরে অস্বস্তি আরও বাড়ল শাসক শিবিরের ভেতরেই।


