হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপাল। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ফের বড় ধরনের বন্যা হতে চলেছে দেশটিতে। আবার ভাসতে চলেছে বিরাট এলাকা। যদিও বিষয়টির সত্যতা উড়িয়ে দিয়েছে নেপাল। সেই দেশের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ জানিয়েছে, রাসুয়া বা নুয়াকোটে ফের বড় ধরনের বন্যা আসতে চলেছে, এমন কোনও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নেই। (ছবি: পিটিআই)
বরং এই সময় কী কী হতে পারে, সেই বিষয়ে সতর্ক করেছে তারা। নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ জানিয়েছে, এই সময় বৃষ্টির কারণে নদীর জলস্তর সামান্য বাড়তে পারে। যদিও এই মুহূর্তে নতুন করে ভয়াবহ বা ধ্বংসাত্মক বন্যার কোনও ইঙ্গিত নেই।
যেই কারণে ভেরিফায়েড খবর ছাড়া কোনও তথ্য শেয়ার করতে আবেদন করা হয়েছে। এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে গুজবের ফাঁদ।
আরও পড়ুনঃ আচমকা ‘জলবোমা’ ফাটল কেন? নেপালে ভয়াল বন্যার পিছনে মোড় ঘোরানো তথ্য
সেই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা এখনও তৈরি হয়নি। তেমনটা হলে সরকারি চ্যানেল, এসএমএস সহ বিভিন্ন মাধ্যমে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।ভয়াবহ হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে নেপাল। এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ১৫০ পার করেছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। ১৩০ জনেরও বেশি ভারতীয় রয়েছেন নিখোঁজের তালিকার। তাঁরা এখন ঠিক কী অবস্থায় রয়েছেন, তার কোনও খোঁজ নেই।
নেপাল প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভয়াবহ বন্যায় রাসুয়া ও ধাদিং জেলা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুই জেলায় বন্যার জলের দাপটে রাস্তা ভেসে গিয়েছে। ভেঙেছে ব্রিজ। এমনকী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এমতাবস্থায় জোরকদমে উদ্ধারকাজ চলছে। নেপালের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে ভারতও।
ওদিকে আবার এই হড়পা বানে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রারত অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রী নিখোঁজ। এমনটাই জানিয়েছে নেপালের পর্যটন মন্ত্রক।
তাদের দাবি, বানে বিধ্বস্ত একাধিক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। যার ফলে নিখোঁজদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ভারতীয় দূতাবাস এবং একাধিক রাজ্য সরকার হেল্পলাইন চালু করেছে। নম্বরগুলি হল ৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং ৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০।
নেপালের প্রশাসন জানিয়েছে, এই বন্যায় সবথেকে বেশি বিপর্যস্ত তিব্বত সীমান্তের কাছে থাকা নেপালের রাসুয়া ও ধাদিং জেলা। এখান দিয়ে ভয়াবহ বন্যার জল বয়ে গিয়েছে ভোতে কোশি নদীতে। রাসুয়ার তিমুরে এলাকা দিয়ে সেই জল ত্রিশূলী নদীতে প্রবেশ করে। এরপর নীচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে নুয়াকোট, চিতওয়ান, গোর্খা, তানাহুন এবং নওয়ালপরাসি ইস্ট জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


