বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের বাইরে বেআইনি বিলবোর্ড ও হোর্ডিং খোলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন সংঘাতের ঘটনায় চরম আইনি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করল পুলিশ। সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলা এবং গোলমাল বাঁধানোর অভিযোগে মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং শেক্সপিয়ার সরণি থানায় ৩টি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ হঠাত্ অভিষেকের অফিসে KMC, ধাক্কা মেরে ঢুকল পুলিশও; তুলকালাম পরিস্থিতি ক্যামাক স্ট্রিটে
ঘটনার মূল বিবরণ ও পুলিশের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার কলকাতা পুরসভার (KMC) বিজ্ঞাপন বিভাগ ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের ছাদে ও সামনে থাকা বেআইনি হোর্ডিং সরানোর নির্দেশ দিয়ে সাহায্য চায়। পুরকর্মীদের সুরক্ষায় শেক্সপিয়ার সরণি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী সেখানে উপস্থিত হয়।
পুলিশ সূত্রে পেশ করা বিবৃতিতে জানানো হয়েছে:
-
অনিয়মিত জমায়েত ও বাধা প্রদান: পুর ও পুলিশ প্রতিনিধি দল সেখানে পৌঁছলে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, হুমায়ুন কবীর ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় সহ একাধিক নেতা ও কর্মী-সমর্থক চত্বরে অনিয়ম করে জমায়েত করেন এবং পুরকর্মীদের সরকারি কাজ সম্পাদনে সরাসরি বাধা দেন।
-
বলপ্রয়োগ ও মহিলা পুলিশ কর্মীকে মারধর: পুলিশি বিবৃতিতে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা ও পুরকর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে বলপ্রয়োগ ও মারধর করা হয়। ডিউটিতে থাকা এক মহিলা পুলিশ কর্মীকেও মারধর এবং তাঁর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে জানানো হয়েছে।
-
হুমকি ও ভয়ভীতি: দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সরকারি আদেশ অমান্য করার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ২০০ বার ওঠবস, কিডনি বিকল হওয়ার উপক্রম; চাকরি বাঁচাতে গিয়ে নরকযন্ত্রণা, বিশ্বজুড়ে তুমুল সমালোচনা
বাধা অতিক্রম করে হোর্ডিং অপসারণ
বৃহস্পতিবার বিকেলে দীর্ঘ টানাপোড়েন ও কার্যালয়ের সিঁড়িতে দফায় দফায় হাতাহাতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অবৈধ নোটিশের দাবি তুলে আধিকারিকদের প্রবেশে বাধা দিলেও পরবর্তীতে পুলিশ অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে এসে বাধা কাটিয়ে ভবনের ছাদে পৌঁছায়। কাটার ও হাতুড়ি ব্যবহার করে আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ বিতর্কিত বিলবোর্ড ও ব্যানারটি সম্পূর্ণভাবে খুলে ফেলা হয়।
ঘটনায় পুলিশ ১৩ জনকে গ্রেফতার করার পর এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া জোরদার করেছে।


