Friday, 11 September, 2026
11 September
Homeসমস্তDurga Puja: অশ্বারোহী দেবী, রুদ্ধদ্বারে অলৌকিক রান্না; জঙ্গলমহলের ৫০০ বছরের প্রাচীন চিলকিগড়...

Durga Puja: অশ্বারোহী দেবী, রুদ্ধদ্বারে অলৌকিক রান্না; জঙ্গলমহলের ৫০০ বছরের প্রাচীন চিলকিগড় কনক দুর্গা

২০০৭ সালে রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীরা সেই অমূল্য মূর্তি চুরি করে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

ঝাড়গ্রামের ডুলুং নদীর তীরে গভীর অরণ্যবেষ্টিত চিলকিগড় রাজবাড়িতে (ধলভূম রাজবংশ) দেবী কনক দুর্গার আরাধনা জঙ্গলমহলের অন্যতম প্রাচীন ও রহস্যঘেরা লোকোৎসব। প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো এই পুজোয় ইতিহাস, লোকবিশ্বাস এবং রাজকীয় ঐতিহ্যের এমন এক অদ্ভুত মেলবন্ধন রয়েছে, যা সমগ্র বাংলায় অনন্য।

ষোড়শ শতকে ধলভূম রাজবংশের রাজা গোপীনাথ সিংহ ডুলুং নদীর তীরে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। জনশ্রুতি অনুযায়ী, সুদূর অতীতে এখানে ভয়ংকর নরবলি প্রথা প্রচলিত ছিল। পরবর্তীতে রাজপরিবারে দেবীর স্বপ্নাদেশের পর নরবলি চিরতরে বন্ধ করে শান্ত রূপের আরাধনা শুরু হয়।

আরও পড়ুনঃ ফোন যেত পাকিস্তানে! জলপাইগুড়িতে ‘বৃহন্নলা কুঠি’-তে বিএসএফ ও পুলিশের যৌথ অভিযান; গ্রেফতার গুরুমা

‘দুর্জম ভোগ’ ও রুদ্ধদ্বারে অলৌকিক রান্নার বিশ্বাস

এই পুজোর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দিকটি জড়িয়ে রয়েছে মহাষ্টমীর রাতের বিশেষ বিরাম ও দুর্জম ভোগকে কেন্দ্র করে:

ভোগের ধরন সময় ও প্রস্তুত প্রণালী লোকবিশ্বাস ও বৈশিষ্ট্য
বিরাম ভোগ দিনের বেলা নিবেদিত দেবীকে অর্পিত মিষ্টি ও প্রথাগত সাধারণ অন্নভোগ।
দুর্জম ভোগ মহাষ্টমীর গভীর রাতে নিবেদিত বলির মাংস, জল ও মশলা মাটির হাঁড়িতে উনুনে চাপিয়ে বাইরে থেকে ঘরে বড় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বাস করা হয়, রাতে দেবী স্বয়ং এসে এই ভোগ রান্না করেন। নবমীর সকালে তালা খুললে মাংস সম্পূর্ণ প্রস্তুত পাওয়া যায়।

আরও পড়ুনঃ  ‘অতিথি দেবো ভব’; কাশ্মীর থেকে তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজস্থান; দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের রকমারি মেনু

অশ্বারোহী রূপ ও অষ্টধাতুর মূর্তি

কনক দুর্গার সামাজিক ও রূপগত বৈশিষ্ট্যে রয়েছে বিশেষ ভিন্নতা:

  • সিংহবাহিনী নন, অশ্বারোহী: এখানকার দেবী দুর্গা সিংহবাহিনী নন, বরং ঘোড়ার পিঠে আসীনা।

  • সোনার মূর্তি চুরি ও নতুন রূপ: মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় মূর্তিটি ছিল খাঁটি সোনার। ২০০৭ সালে রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীরা সেই অমূল্য মূর্তি চুরি করে। পরবর্তীতে পুলিশি অভিযানে দুষ্কৃতীরা ধরা পড়লেও ততদিনে মূর্তির অনেকটাই গলে যায়। উদ্ধার হওয়া সোনা ও অন্যান্য ধাতু মিশিয়ে তৈরি অষ্টধাতুর নতুন মূর্তিতে বর্তমানে মায়ের পুজো হয়।

  • বিসর্জনহীন প্রতিমা: অষ্টধাতুর মূল প্রতিমাটি স্থায়ী হওয়ায় বিজয়া দশমীতে মূর্তির বিসর্জন হয় না; কেবল নবপত্রিকাকে ডুলুং নদীর জলে নিরঞ্জন দেওয়া হয়।

আদিবাসী সংস্কৃতির মেলবন্ধন

রাজপরিবারের পুজো হলেও এটি জঙ্গলমহলের সাধারণ মানুষ ও আদিবাসী জনজাতির প্রাণের উৎসব। বংশপরম্পরায় স্থানীয় লোধা, শবর ও ভূমিজ সম্প্রদায়ের মানুষজনই এই পুজোর মূল দায়িত্ব ও আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন। অরণ্য, ইতিহাস ও অলৌকিক বিশ্বাসের এই মেলবন্ধন প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শনার্থীকে চিলকিগড়ে টেনে আনে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন