Thursday, 17 September, 2026
17 September
Homeজ্যোতিষ/আধ্যাত্মিকতাRanna Puja: অনন্য বাঙালি রসনা, ভাদ্রে রেঁধে আশ্বিনে খাওয়া; মডিউলার কিচেনে 'রান্না...

Ranna Puja: অনন্য বাঙালি রসনা, ভাদ্রে রেঁধে আশ্বিনে খাওয়া; মডিউলার কিচেনে ‘রান্না পুজো’ ও ‘অরন্ধন’

আজকের কংক্রিটের মডিউলার কিচেনে মাটির উনুন বা সাপের আতঙ্ক না থাকলেও অরন্ধনের আসল বার্তাটি আজও অটুট।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

সংস্কৃতি ও লোকসংস্কৃতি প্রতিনিধি:

ভাদ্রমাসের শেষ রাতের কুয়াশা-মাখা অন্ধকার যখন সবে ফিকে হতে শুরু করে, বাংলার বহু সশদে জাগ্রত বাড়ির হাঁড়ি-হেঁশেল থেকে তখনো ভেসে আসে সর্ষের তেলের ঝাঁঝ আর ভেজে রাখা মাছ-শাকের সোঁদা সুবাস। যে বাঙালি ফুটন্ত ভাতের গন্ধ আর কড়াইয়ের ছ্যাঁকছোঁক আওয়াজ ছাড়া থাকতে পারে না, সেই বাঙালির জীবনেই বছরে এমন একটি দিন আসে—যেদিন ঘরের হাঁড়ি-কুঁড়ি নিথর, উনুন নির্বাক, আর চরাচর স্নিগ্ধ-শীতল।

এই লোকউৎসবের নাম ‘অরন্ধন’। আর তার ঠিক আগের দিন রাত জেগে উনুনের সঙ্গে যুদ্ধের নাম—‘রান্না পুজো’। “ভাদ্রে রেঁধে আশ্বিনে খাওয়া“—গ্রামবাংলার এই চেনা প্রবাদের আড়ালে শুধু রসনাতৃপ্তি নয়, লুকিয়ে আছে কয়েক শতাব্দীর আবহমান লোকসংস্কৃতি ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মেলবন্ধন।

আরও পড়ুনঃ  কারিগরি উদযাপনে আকাশে আকাশে ‘ভো কাট্টা’-র সুর; ‘আকাশ ভরা স্বপ্নে’ দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আবাহন

অরন্ধনের সূচনা: পুরাণ ও লোকায়ত ইতিহাস

রান্না পুজো ও অরন্ধন পালনের নেপথ্যে পৌরাণিক বিশ্বাস এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার এক অপূর্ব সমন্বয় বিদ্যমান:

ক্ষেত্র পটভূমি ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য
পৌরাণিক আখ্যান মনসামঙ্গল ও পদ্মাপুরাণ অনুযায়ী, দেবী পদ্মাবতী (মনসা) মহাদেবের জন্য ছত্রিশ ব্যঞ্জন রান্না করলেও চণ্ডীর কোপে তা বিঘ্নিত হয়। মনসার ক্রোধ শান্ত করতে ভক্তরা উনুন নিভিয়ে ঠান্ডা অন্ন নিবেদন করে দেবীকে স্নিগ্ধ করেছিলেন।
বাস্তব ও লোকায়ত কারণ ভাদ্রের শেষে নদী-নালা উপচে আসা বিষধর সাপ শুকনো আশ্রয়ের খোঁজে উনুন বা কাঠের স্তূপে আশ্রয় নিত। উনুনে আগুন জ্বালিয়ে সর্পদাহ বা সর্পাঘাত এড়াতে মাটির উনুনকে গোবর-জলে নিকিয়ে, সিজ-মনসার ডাল পুঁতে পূজা করার রীতি চালু হয়।
অহিংসা ও জীবপ্রেম এটি কেবল সর্পভয় নিবারণ নয়, বরং আগুন নিভিয়ে প্রকৃতির জীবকূলকে রক্ষা করার এক অনন্য সামাজিক ও অহিংস উদযাপন।

আরও পড়ুনঃ  ঐতিহ্য ‘রান্নাপুজো’; উনানের বিশ্রাম ও নারীশ্রমের স্বীকৃতি

কড়াইয়ের উত্তাপ থেকে শীতল পান্তা: অনন্য রসনাবিলাস

রান্না পুজো বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির এক রাজকীয় আয়োজন। ভাদ্রের শেষ প্রহরে তৈরি পদগুলি ভাতের জলে জারিত হয়ে পরদিন আশ্বিনের প্রথম সকালে নিবেদিত হয়:

  • বৈচিত্র্যময় পদ: চালতার টক, নরম কচুশাক, বাঙাল বাড়ির ইলিশের তেল-ঝাল কিংবা ঘটি বাড়ির নিরামিষ ব্যঞ্জন।

  • ভাজার বাহার: বেগুন, পটল, ডুমুর, চালকুমড়ো, কাঁচকলা, ওল থেকে শুরু করে নারকেল কোরা সহ ৭ থেকে ১৩ রকমের ভাজা।

  • বাসি পান্তার অমৃত: পরদিন সকালে শীতল উনুনে ভোগ নিবেদনের পর কলাপাতায় বা মাটির সানকিতে বাসি পান্তা ও ঠান্ডা ব্যঞ্জন পরিবেশন করা হয়। এই সংস্কৃতিতে ‘বাসি’ খাবার অবহেলার নয়, বরং পরম যত্নে মজিয়ে রাখা অমৃতের প্রতীক।

আধুনিক যুগে অরন্ধনের প্রাসঙ্গিকতা

আজকের কংক্রিটের মডিউলার কিচেনে মাটির উনুন বা সাপের আতঙ্ক না থাকলেও অরন্ধনের আসল বার্তাটি আজও অটুট। সারা বছর যে হাত দুটো আগুনের আঁচে পরিবারের জন্য অন্ন তৈরি করে, সেই গৃহিণীর ক্লান্ত হাত দুটোকে একটি দিনের জন্য পূর্ণ বিশ্রাম দেওয়ার এটি এক নীরব ও শ্রদ্ধাশীল সামাজিক উদ্যোগ। প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সন্ধি করে বেঁচে থাকার এই দর্শন আবহমান বাঙালির এক অমূল্য ঐতিহ্য।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন