বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিনিধি, কলকাতা:
নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে অভাবনীয় মোড়। জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দলীয় নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক স্থগিত (Freeze) হওয়ার পর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন থেকে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান (দে)।
শনিবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন থাকলেও, তার আগের দিনই আচমকা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দূরপাল্লার সাক্ষাতের পর হলদিয়ার মহকুমাশাসকের (SDO) দফতরে গিয়ে নিজের নাম প্রত্যাহার করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ বামকে ‘শূন্য’ বলে মমতা আজ নন্দীগ্রামে ‘শূন্য’; নন্দীগ্রামে প্রার্থীই রইল না মমতার!
নন্দীগ্রামে আর কোনো বিকল্প প্রার্থী না থাকায় এরপরই জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটকে শক্তিশালী করতে এবং বিজেপির বিরুদ্ধে একক লড়াই গড়ে তুলতে নন্দীগ্রামে তাঁরা জাতীয় কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন জানাবেন।
নির্বাচনী পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রেক্ষাপট ও দলগত অবস্থান নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| রাজনৈতিক বিষয় | বর্তমান আপডেট ও পটভূমি |
| প্রার্থীপদ প্রত্যাহার | মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান (দে) নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। |
| রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত | নন্দীগ্রামে প্রার্থী না থাকায় জাতীয় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। |
| নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ | প্রতীক ও দলীয় নাম সংক্রান্ত বিবাদের জেরে ‘জোড়াফুল’ স্থগিত করা হয়েছে এবং দুই শিবিরকে নতুন নাম ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। |
| ভোটের পরিসংখ্যান (২০২১) | একুশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী শেখ জারিয়াতুল হোসেন মাত্র ৭৯৪টি ভোট (০.৩১%) পেয়েছিলেন। |
আরও পড়ুনঃ নাটকে ‘নতুন মোড়’, মমতার ফুলও গেল প্রার্থীও গেল নবান্নে শুভেন্দুর ঘরে
জোট বার্তা ও রাজনৈতিক সমীকরণ
সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ঐক্য বজায় রাখতে দায়বদ্ধ। বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে এবং বিজেপিকে পরাস্ত করতে নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, রাহুল গান্ধী ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো শীর্ষ নেতৃত্বরা তাঁর সাথে আলোচনা করেছেন। তবে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর উপনির্বাচন নিয়ে দলের সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক অত্যন্ত নগণ্য ছিল, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণার পর তৃণমূল সমর্থক ভোটাররা হাত চিহ্নে ভোট দেবেন কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জোড়াফুল প্রতীক ছাড়া এবং নিজেদের কোনো প্রার্থী না রেখে নন্দীগ্রামের এই জটিল রাজনৈতিক ময়দানে কংগ্রেসের কাঁধে ভর দিয়ে মমতা শিবিরের এই চাল আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিল।


