Saturday, 24 October, 2026
24 October
Homeউত্তরবঙ্গCooch Behar: গলা টিপে রোগীকে খুন? কোচবিহারের হাসপাতালে ধুন্ধুমার

Cooch Behar: গলা টিপে রোগীকে খুন? কোচবিহারের হাসপাতালে ধুন্ধুমার

পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

সোমেন দত্ত, কোচবিহারঃ

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো কোচবিহারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। মৃত ব্যক্তি পেশায় নিজেই একজন চিকিৎসক ছিলেন। পরিবারের দাবি, চিকিৎসায় গাফিলতির প্রতিবাদ করায় তাঁকে গলা টিপে খুন করা হয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে হাসপাতালের অন্দরে ও বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। মৃতার আত্মীয়দের সঙ্গে হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীদের ধস্তাধস্তিতে রক্ত ঝরার মতো ঘটনাও ঘটে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

আরও পড়ুনঃ  যাত্রী সুরক্ষায় উঠছে বড় প্রশ্ন! শিয়ালদহ স্টেশনে বড়সড় নিরাপত্তা ত্রুটি

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

মৃত চিকিৎসকের নাম দীপঙ্কর সরকার, বাড়ি তুফানগঞ্জের চামটা এলাকায়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত দশমীর দিন পেটে তীব্র ব্যথার সমস্যা নিয়ে কোচবিহারের ওই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন দীপঙ্করবাবু। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে এসেছিলেন। পরিবারের দাবি, শুক্রবার রাতেও তিনি সুস্থভাবে সবার সঙ্গে কথা বলেছিলেন।

কিন্তু এর পরেই গভীর রাতে হাসপাতালের পক্ষ থেকে ফোন করে পরিবারের লোকজনকে জানানো হয় যে রোগীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। দ্রুত হাসপাতালে ছুটে এসে পরিবারের সদস্যরা দীপঙ্করবাবুর মৃত্যুর খবর পান।

পরিবারের গুরুতর অভিযোগ: খুন নাকি চিকিৎসা গাফিলতি?

হাসপাতালে পৌঁছেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের আত্মীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর কোনো উপযুক্ত চিকিৎসক রোগীকে দেখতে আসেননি, কেবল নার্সদের দেওয়া ওষুধের ওপর নির্ভর করেই চিকিৎসা চলছিল। মৃত দীপঙ্করবাবু নিজে চিকিৎসক হওয়ায় চিকিৎসার এই ত্রুটি ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পরিবারের জোরালো অনুমান, এই কারণেই তাঁকে সুপরিকল্পিতভাবে গলা টিপে খুন করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের আরও দাবি, দীপঙ্করবাবুর গলায় স্পষ্ট আঘাতের বা কালশিটে দাগ রয়েছে। গলায় ফাঁস বা চাপ দিয়েই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁরা সন্দেহ করছেন।

আরও পড়ুনঃ  ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ তৈরি হবে সোমবার সকালের মধ্যেই! দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগের মেঘ, প্রশাসনের কড়া নজরদারি

ক্ষতিপূরণের ‘অফার’ নিয়ে রহস্য ও সংঘর্ষ

শনিবার সকালে মৃতদেহ দেখতে পাওয়ার পর হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা চরম আকার নেয়। খুনের অভিযোগ তোলার পর হাসপাতালের তরফ থেকে পরিবারের লোকজনকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ‘অফার’ বা প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের প্রশ্ন—হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি এই মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে যুক্ত না-ই থাকে বা তাদের কোনো গাফিলতি না থাকে, তবে হঠাৎ তারা ক্ষতিপূরণ দিতে চাইছে কেন? এই প্রশ্ন ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে মৃতের আত্মীয়দের তীব্র ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়, যার ফলে এক আত্মীয়ের জখম হয়ে রক্তপাতও হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী। পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

অন্যদিকে, রোগীর পরিবারের সমস্ত অভিযোগ ও খুনের তত্ত্ব সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে তাদের তরফে। তবে এই আকস্মিক মৃত্যু এবং ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব ঘিরে যে রহস্যের জাল তৈরি হয়েছে, তার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন