বিশেষ জাতীয় ও রাজনৈতিক প্রতিবেদন:
সোমবার সকালে উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুর কোর্টে মানহানি মামলার শুনানিতে হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে বড়সড় দুর্ঘটনার মুখে পড়ল লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর কনভয়। লখনউ থেকে সুলতানপুর যাওয়ার পথে পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ের ওপর এই দুর্ঘটনা ঘটে। কনভয়ের পিছনের দিকে থাকা একাধিক গাড়ি ও একটি অ্যাম্বুল্যান্সের মধ্যে ধারাবাহিক সংঘর্ষের ফলে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে বড় ধরনের বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন রাহুল গান্ধী এবং তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘কাপুরুষ’ দীপকেদের কেরিয়ার শেষ; ‘পিস বন্ড মানেই রাজনৈতিক আত্মহত্যা’! দাবি প্রাক্তন বিচারপতির
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে লখনউ বিমানবন্দর থেকে কনভয় নিয়ে সুলতানপুর আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন রাহুল গান্ধী। গন্তব্যে পৌঁছানোর ঠিক কিছুদূর আগে, পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ের প্রায় ৯১ কিলোমিটার মাইলস্টোন ও হালিয়াপুর থানা এলাকার কাছাকাছি আসতেই এই বিপত্তি ঘটে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কনভয়ের সামনের একটি গাড়ির চালক আচমকা ব্রেক কষে ফেললে ঠিক পিছনে থাকা একটি অ্যাম্বুল্যান্স ও কংগ্রেস নেতাদের কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। পরপর পাঁচটি গাড়ি ও একটি অ্যাম্বুল্যান্সের এই সংঘর্ষের জেরে কনভয়ে থাকা বেশ কয়েকজন কংগ্রেস কর্মী, পদাধিকারী ও নিরাপত্তাকর্মী সামান্য আহত হন। তবে সৌভাগ্যবশত রাহুল গান্ধীর নিজের গাড়িটি দুর্ঘটনার অনেক সামনে থাকায় তিনি ও তাঁর গাড়িটি সম্পূর্ণ অক্ষত থাকে। সংঘর্ষের তীব্রতায় একটি গাড়ির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ নির্বাচনের আগে তেল আভিভে পরিমাণু বিস্ফোরণ! হুমকির মুখে ইজরায়েল
মামলার প্রেক্ষাপট ও সুলতানপুর কোর্টে হাজিরা
এই দুর্ঘটনার আকস্মিক ধাক্কা ও প্রাথমিক বিরতির পর কনভয় পুনরায় সুলতানপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এবং রাহুল গান্ধী নির্দিষ্ট সময়েই আদালতে হাজিরা দেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে তৎকালীন বিজেপি সভাপতি ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে একটি মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের হয়েছিল। বিজেপির এক স্থানীয় নেতার করা সেই মানহানি মামলার শুনানি ও রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই সোমবার সুলতানপুরের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতে হাজির হন কংগ্রেস সাংসদ। যাত্রাপথে এমন অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনার পরেও অবিচল থেকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।


