বিশেষ সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক প্রতিবেদন:
কলকাতার সংস্কৃতি চর্চার প্রাণকেন্দ্র ‘নন্দন’ চত্বরে ঘটে গেল এক বড়সড় পরিবর্তন। নন্দনের বিভিন্ন ভবন, নতুন প্রদর্শনী ক্ষেত্র এবং সংস্কারমূলক কাজের উদ্বোধনী স্মারক ফলকগুলো থেকে মুছে দেওয়া হলো রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। ফলকের যে অংশগুলোতে তাঁর নাম খোদাই করা ছিল, সেখানে সাদা ও ধূসর রঙের প্রলেপ দিয়ে তা ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
তবে নন্দন প্রতিষ্ঠার মূল ঐতিহাসিক স্মারক ফলকটি—যেখানে ১৯৮০ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নাম রয়েছে—তা সম্পূর্ণ অক্ষত ও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ রাহুলদের গাছে তুলে মই কাড়ল দিপকেরা; রামলীলা ময়দানের সমাবেশে থাকছে না সিজেপি
১. স্মারক ফলকে পরিবর্তনের ছোঁয়া: নন্দনের ইতিহাস ও বর্তমান
বাঙালি চলচ্চিত্রপ্রেমী, বুদ্ধিজীবী ও তরুণ প্রজন্মের আড্ডার মূল তীর্থক্ষেত্র নন্দনে এই পরিবর্তন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে:
-
ঐতিহাসিক ভিত্তিপ্রস্তর: ১৯৮০ সালে নন্দন চত্বরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জ্যোতি বসু এবং ১৯৮৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় এটি উদ্বোধন করেন।
-
স্মারক ফলকে পরিবর্তন: রাজ্য ক্ষমতার রদবদলের পর বিভিন্ন সময়ে নন্দনের রূপান্তর, নতুন হল ও প্রদর্শনী কক্ষের উদ্বোধন উপলক্ষে মমতার নামাঙ্কিত একাধিক ফলক বসানো হয়েছিল। সম্প্রতি সেই ফলকগুলোতেই রঙের প্রলেপ বুলিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নাম আড়াল করা হয়েছে।
-
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শেষ শ্রদ্ধা: উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণের পর তাঁর নশ্বর দেহ নন্দনের রবীন্দ্র সদনে সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধার জন্য রাখা হয়েছিল।

২. কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (KIFF)-এর লোগো উন্মোচন ও পুনর্নির্মাণ
এদিনই নন্দন চত্বরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে উন্মোচিত হলো কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (KIFF) নতুন লোগো।
-
মিঠুন চক্রবর্তীর লোগো উন্মোচন: রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের প্রধান উপদেষ্টা, প্রখ্যাত অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের নতুন এই লোগোটি উন্মোচন করেন।
-
সত্যজিৎ রায়ের আঁকা আদি লোগো ও রূপান্তর: নন্দনের মূল প্রতীক বা লোগোটি সত্যজিৎ রায় নিজেই নকশা করেছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক এই চলচ্চিত্র উৎসবকে আধুনিক রূপ দিতে উৎসব কমিটির পরামর্শে সন্দীপ রায় ও শীর্ষ নেতৃত্ব লোগো এবং ট্রফিতে নতুন নান্দনিকতার ছোঁয়া এনেছেন।


