কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
শীতের ছোঁয়ায় ঢাকা পড়েছে বাংলার আকাশ, কিন্তু বঙ্গোপসাগরের উত্তাপ এখনও অস্থির। ভারতীয় আবহাওয়া অফিস (আইএমডি) আজকের আবহাওয়া পূর্বাভাসে স্পষ্ট করেছে উত্তর বাংলায় শুষ্ক আবহাওয়া সঙ্গে হালকা কুয়াশা, দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা এবং হাওয়ায় ঠান্ডা। বঙ্গোপসাগরে গড়ে উঠছে সেনিয়ার ঘূর্ণিঝড়ের ছায়া, যা ২৬ নভেম্বরের মতো দক্ষিণ ভারতের উপকূলে প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু বাংলায় এর প্রতিফলন হবে হালকা বৃষ্টি আর বাতাসে।
আরও পড়ুনঃ নিঃশর্ত ক্ষমা চাইল উত্তর ২৪ পরগনা! শিলিগুড়িতে টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে বিশৃঙ্খলা
আইএমডির কলকাতা অফিস বলছে, “আজ উত্তর বাংলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৬-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ন্যূনতম ১৪-১৬ ডিগ্রি। দক্ষিণে ২৮-৩০ ডিগ্রি, কিন্তু পশ্চিমমের হাওয়ায় শীতলতা বাড়বে। বৃষ্টির সম্ভাবনা দক্ষিণে ২০-৩০ শতাংশ।” এই পূর্বাভাস শুধু আবহাওয়া নয়, জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত কৃষক, মৎস্যজীবী আর শহুরে মানুষ সবাইকে সতর্ক করে।উত্তর বাংলার কথা আগে বলি। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারের মতো এলাকায় আজকের দিনটা শান্ত থাকবে।
আইএমডির রিপোর্ট অনুসারে, সকালে হালকা কুয়াশা জমতে পারে, যা দৃষ্টিসীমা কমিয়ে ৫০০ মিটার পর্যন্ত নামাতে পারে। দিনের বেলায় আকাশ পরিষ্কার থাকবে, শুষ্ক আবহাওয়া। তাপমাত্রা সকালে ১৪ ডিগ্রির নিচে নামতে পারে, বিকেলে ২৬-২৭ ডিগ্রিতে স্থিতিশীল। হিমালয়ের ঠান্ডা হাওয়া উত্তর থেকে বইছে, যা সন্ধ্যায় তাপমাত্রা আরও নামিয়ে আনবে। দার্জিলিংয়ের মতো উচ্চভূমিতে তাপমাত্রা ১২-১৪ ডিগ্রি, যেখানে সকালে ঝিরঝিরে কুয়াশায় চা বাগানগুলো ঢেকে যাবে।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, “শীত শুরু হয়েছে, ধান কাটার কাজে সতর্কতা অবলম্বন করছি।” আইএমডি পরামর্শ দিয়েছে, যানজমা চালকরা কুয়াশায় আস্তে চালান, এবং বাইরে বের হলে গরম পোশাক পরুন। বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে দৃষ্টিসীমার খেয়াল রাখুন।দক্ষিন বাংলায় আবহাওয়া একটু অস্থির। কলকাতা, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, পূর্ববর্ধমানের মতো এলাকায় আজ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে বিকেল-সন্ধ্যায়।
বঙ্গোপসাগরের লো প্রেশার এর প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলে মেঘলা আকাশ, বাতাসের গতি ১৫-২৫ কিমি/ঘণ্টা। তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ২৮-৩০ ডিগ্রি, ন্যূনতম ২০-২২ ডিগ্রি। কলকাতায় সকালে রোদ উঁকি দেবে, কিন্তু দুপুরের পর মেঘ বাড়বে। আইএমডির বুলেটিনে বলা হয়েছে, “দক্ষিণ বাংলায় স্কোয়ালি হাওয়া বইতে পারে, বৃষ্টিপাত ৫-১০ মিলিমিটার হতে পারে।”
সুন্দরবনের মৎস্যজীবীরা সতর্ক—সমুদ্রে যাওয়া এড়িয়ে চলুন, কারণ বঙ্গোপসাগরে ঢেউ ১.৫-২ মিটার উঁচু হতে পারে। কৃষকরা বলছেন, “বৃষ্টি হলে সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কিন্তু শুকনো আবহাওয়ায়ও শীতের প্রভাব বাড়ছে।” শহুরে জীবনে অফিস-কলেজ যাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু ছাতা-রেইনকোট রাখুন।





