উত্তরপাড়া কেবল একটি ভৌগোলিক মানচিত্র নয়, বরং বাংলার নবজাগরণের পুণ্যভূমি। কিন্তু সেই ঐতিহ্য আজ বিপন্ন, এই অভিযোগ তুলে নববর্ষের শুভক্ষণে নিজের নির্বাচনী সংকল্প বা ইস্তেহার প্রকাশ করলেন সিপিআইএম-এর ‘ক্যাপ্টেন’ মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। হিন্দমোটর স্টেশন রোডের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করলেন, তাঁর লড়াই উত্তরপাড়ার হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারের।
মিনাক্ষীর এবারের ইস্তেহারের বিশেষত্ব হলো, এটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে তৈরি হয়নি। গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর থেকে উত্তরপাড়ায় ঘাঁটি গেড়েছেন মিনাক্ষী। প্রয়াত বাম মন্ত্রী সুদর্শন রায় চৌধুরীর কোন্নগরের বাড়ি থেকে গত কয়েক মাসে তিনি ২৯০টি বুথে প্রায় ৩৫০টি পাড়া বৈঠক করেছেন।
আরও পড়ুনঃ বীরভূমের বুকে প্রথম এত বড় চিমনি! ৩৪ বছরে বামেরা কিছুই করেনি! ভুলে গেলে চলবে
মিনাক্ষী বলেন, “আমাদের এই ইস্তেহার বামফ্রন্ট ওপর থেকে ঠিক করে দেয়নি। পাড়া বৈঠকে মানুষের সমালোচনা, পরামর্শ আর সমস্যা থেকেই এই নির্যাস উঠে এসেছে। বলতে পারেন, এটা উত্তরপাড়ার মানুষেরই ইস্তেহার।”
মিনাক্ষীর নির্বাচনী ইস্তেহারে প্রাধান্য পেয়েছে একগুচ্ছ সামাজিক ও পরিকাঠামোগত বিষয়। উল্লেখযোগ্য দিকগুলি হলো, উত্তরপাড়ায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা বেশি হওয়া সত্ত্বেও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘মেয়েদের সুরক্ষিত বাহিনী’ গড়ার ডাক।

প্রবীণ নাগরিকদের দেখভালের জন্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ‘নবীনদের বাহিনী’ গঠন। বেহাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংস্কার এবং খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাটের ভোলবদল। শিল্প, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে উত্তরপাড়ার পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা।
ইস্তেহার প্রকাশের সময় মিনাক্ষীর পাশে ছিলেন হুগলি জেলা কমিটির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য তথা প্রাক্তন বিধায়ক শ্রুতিনাথ প্রহরাজ এবং অভিজিৎ চক্রবর্তী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিনাক্ষীর লড়াইটা বেশ কঠিন। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে সিপিআইএম প্রার্থী রজত ব্যানার্জী পেয়েছিলেন প্রায় ৪২ হাজার ভোট (২১.৩৭%)।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার পেনশন চাই না!’ রাজ্যসভায় চিঠি লিখে জানালেন সিপিএম প্রার্থী বিকাশ
২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে দীপ্সিতা ধরের হাত ধরে বামেদের ভোট বেড়ে দাঁড়ায় ২৫.৭২ শতাংশে। বিধানসভা নির্বাচনের সেই বাড়তি ভোট এবং মিনাক্ষীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কি এবার উত্তরপাড়ার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেবে? উত্তরপাড়ার মনীষীদের হৃতগৌরব কি ফিরবে বামেদের হাত ধরে? নজর এখন নির্বাচনের ফলাফলের দিকে।



