সোমবার নয়াদিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনের যে আখ্যান লেখা হল, তা এককথায় বেনজির। বাংলার রাজনীতিতে গত ৫০ বছরেরও বেশি সময়ে এহেন ঘটনার কোনও দৃষ্টান্ত নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে তৃণমূলের এক ডজনেরও বেশি সাংসদ ঘোষণা করে দিয়েছেন, তাঁরাই আসলে ‘আসল তৃণমূল’ এবং তাঁরা বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA)-র পাশে থাকবেন।
আরও পড়ুনঃ রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য; তোলাবাজি মামলায় গ্রেফতার সব্যসাচী দত্ত
কিন্তু এই মেগা ড্রামার মধ্যেই কৌতূহলের বিষয় হল— এদিনের বৈঠকে ঠিক কতজন উপস্থিত ছিলেন, আর স্পিকারের উদ্দেশে দেওয়া চিঠিতে সই-ই বা করছেন কতজন?
অনেকেই দাবি করছেন যে, এদিনের বৈঠকে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। তবে ভেতরের খবর হলো, ব্যাপারটা মোটেও তা নয়। বরং কারা কারা ওই বৈঠকে ছিলেন না, সেই তালিকাটা গুনে নিলেই পুরো ছবিটা জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে।
ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ির হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে অনিবার্যভাবেই ছিলেন না এই ১২ জন সাংসদ:
১. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
২. মহুয়া মৈত্র
৩. কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
৪. সাজদা আহমেদ
৫. সায়নী ঘোষ
৬. কীর্তি আজাদ
৭. শত্রুঘ্ন সিনহা
৮. মালা রায়
৯. প্রতিমা মণ্ডল
১০. মিতালি বাগ
তা ছাড়া ইউসুফ পাঠান ও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ব্লকের সঙ্গে থাকলেও ঘটনাচক্রে এদিন ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে ছিলেন না।
বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট সাংসদ সংখ্যা হলো ২৮ জন। তার মধ্যে উপরের ওই ১২ জন যদি অনুপস্থিত থাকেন, তবে বাকি থাকেন আর ঠিক ১৬ জন।
আরও পড়ুনঃ বিস্ফোরক গোপন রিপোর্ট সামনে আনল ‘দ্য স্টেটসম্যান’! মদ-নীতিতে ‘হাজার কোটির লুট’
সূত্রের দাবি, এই বাকি ১৬ জনের মধ্যে সোমবার দুপুরের বৈঠকে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন ১৪ জন সাংসদ। তবে বৈঠকে সশরীরে না থাকলেও বহরমপুরের সাংসদ ইতিমধ্যেই অঙ্গীকার করে রেখেছেন যে তিনি স্পিকারের উদ্দেশে লেখা ওই চিঠিতে সই করবেন। সোমবার রাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে তাঁর দেখা করার কথা রয়েছে। আর হুগলির সাংসদ এই মুহূর্তে কলকাতা বা দিল্লিতে নেই, তিনি সপরিবারে মালয়েশিয়ায় ছুটি কাটাচ্ছেন। তবে তিনিও বিজেপি নেতৃত্বকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে দেশে ফিরেই তিনি এই চিঠিতে সই করে দেবেন।
তৃণমূলের এই নতুন ‘বিদ্রোহী ব্লকের’ অন্দরেও আবার কিছু পছন্দ-অপছন্দ রয়েছে। যেমন— এই ব্লকের অনেক সাংসদই যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষকে তাঁদের জোটে সামিল করতে একেবারেই নারাজ। অন্যদিকে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদের মতো কট্টর মোদী-বিরোধী মুখদের বিজেপি নেতৃত্ব নিজে থেকেই স্পর্শ করতে চায় না। আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে তো এমন কোনও প্রশ্ন ওঠার জায়গাই নেই।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের আশা, খুব দ্রুতই বাকি থাকা আরও কয়েকজন সাংসদকে বুঝিয়ে স্পিকারের চিঠিতে সই করিয়ে নেওয়া যাবে। তার ফলে ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা (Majority) থাকবে এই নতুন ব্লকের হাতেই।
আপাতত এই ব্লকের রণকৌশল কী? কাকলি ঘোষ দস্তিদারের কথায়, আপাতত তৃণমূলের এই নতুন ব্লকটি সরাসরি বিজেপিতে না মিশে গিয়ে লোকসভার ভেতরে এনডিএ-র সঙ্গে জুড়ে থাকবে এবং সব বিষয়ে সমন্বয় করে চলবে। লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঠিক এটাই জানাতে চলেছেন তাঁরা।


