পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর একটি স্কুলের ক্লাসঘর ও অফিস কক্ষের সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেল মহিলাদের অন্তর্বাস। এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে এমন দৃশ্য দেখে হতবাক শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী থেকে পড়ুয়ারা। সোমবার সকালে এই ঘটনা সামনে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্বস্তিতে পড়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ বিকেলে একাধিক জেলায় কালবৈশাখীর শঙ্কা, কলকাতায় কি হবে?
ঘটনাটি ঘটেছে পূর্বস্থলীর শ্যামবাটি রাধাকৃষ্ণ ভৌমিক বিদ্যাপীঠে। স্থানীয় এলাকায় দীর্ঘদিনের সুনাম রয়েছে এই স্কুলের। শুধু আশপাশের গ্রাম নয়, দূরদূরান্ত থেকেও বহু ছাত্রছাত্রী এখানে পড়াশোনা করতে আসে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সোমবার সকালে যথারীতি স্কুল খোলার পর শিক্ষক-শিক্ষিকারা ক্যাম্পাসে ঢুকেই অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখতে পান।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, একাধিক শ্রেণিকক্ষের সামনে মহিলাদের অন্তর্বাস পড়ে থাকতে দেখা যায়। শুধু ক্লাসঘরই নয়, স্কুলের অফিস কক্ষের সামনেও একই ধরনের জিনিস ছড়িয়ে ছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই স্কুলের পরিবেশে অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে ছাত্রছাত্রীরাও স্কুলে আসতে শুরু করায় পরিস্থিতি আরও বিব্রতকর হয়ে ওঠে।
কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে স্থানীয় মহলে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জায়গায় এ ধরনের কাজকে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ এবং বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন অনেকেই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পূর্বস্থলী থানার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে তারা। ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে এমন কাজ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ বটগাছের মতো, এক কালজয়ী নাম, সংগীতের বরপুত্র, সুরের জাদুকর জন্মদিণে হেমন্ত
ঘটনার প্রতিবাদে এবং সামাজিক সচেতনতার বার্তা দিতে স্কুলের পক্ষ থেকে একটি পদক্ষেপও নেওয়া হয়। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নিয়ে স্কুলের আশপাশের এলাকায় একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। স্থানীয় বাজার এবং সংলগ্ন এলাকায় ঘুরে সাধারণ মানুষকে বিষয়টি জানানো হয়।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক শুভঙ্কর দে জানান, রবিবার স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়েই কেউ বা কারা রাতের অন্ধকারে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তাঁদের অনুমান। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দৃষ্টিকটু এবং কুরুচিপূর্ণ। আমরা ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার করেছি এবং পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।’ ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার এই ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।


