Thursday, 18 June, 2026
18 June
HomeকলকাতাMamata Banerjee: শুধু পছন্দের অফিসারে না, জেড প্লাস নিরাপত্তা অক্ষত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর

Mamata Banerjee: শুধু পছন্দের অফিসারে না, জেড প্লাস নিরাপত্তা অক্ষত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর

সমস্যা শুধু তৈরি হয়েছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিশেষ ‘বায়না’ ঘিরে, যা সরকারি নিয়ম মেনে মানা সম্ভব হয়নি।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রত্যাহার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা কার্যত নস্যাৎ করে দিল প্রশাসন । প্রশাসনিক শীর্ষ স্তরের স্পষ্ট দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায় বিন্দুমাত্র কাটছাঁট করা হয়নি ।

বরং, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম দিন নবান্নে দায়িত্বভার গ্রহণ করেই পুলিশ প্রশাসনকে এই বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন । রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বয়স হয়েছে । তাঁর যেন কোনও অসুবিধা না হয় তা নিশ্চিত করবেন । তাঁর নিরাপত্তায় যেন কোনও রকমের ত্রুটি না থাকে ।”

প্রশাসনের দাবি, সেই নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হচ্ছে । প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের চারপাশে যেমন পুলিশি প্রহরা রয়েছে, তেমনই তাঁর সার্বিক ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তাতেও কোনও শিথিলতা নেই ।

আরও পড়ুনঃ নিরাপত্তাহীন ‘পিসি’? পুলিশ কিয়স্ক সম্পূর্ণ ফাঁকা

নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় মূলত বুধবার রাতে । তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন একটি ফেসবুক লাইভ করে দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে কোনও নিরাপত্তারক্ষী নেই । যে কেউ অনায়াসে সেখানে প্রবেশ করতে পারে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন । একই সঙ্গে তাঁর দাবি ছিল, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের দুই বিশ্বস্ত নিরাপত্তারক্ষীকে প্রশাসন আচমকা সরিয়ে নিয়েছে ।

ডেরেকের এই ভিডিয়ো দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য ছড়ায় । কিন্তু পুলিশের একটি সূত্রের পাল্টা দাবি, বুধবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যে মিছিলটি করেছিলেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে আগাম কোনও অফিশিয়াল তথ্য ছিল না । তা সত্ত্বেও খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ তাঁর যাতায়াতের পথে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করে ।

নবান্ন সূত্রের খবর, গোটা সমস্যার মূলে রয়েছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী বা পিএসও নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর একটি বিশেষ দাবি । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন, দীর্ঘদিনের পরিচিত স্বরূপ গোস্বামী এবং কুসুম কুমার দ্বিবেদীকেই তাঁর পাহারায় রাখতে হবে । এই নির্দিষ্ট দুই অফিসার ছাড়া অন্য কাউকে তিনি তাঁর নিরাপত্তা বলয়ে রাখতে নারাজ ।

এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনিক শীর্ষ আধিকারিকের বক্তব্য, সরকারি নিয়মে এভাবে ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে আধিকারিক নিয়োগের কোনও সুযোগ নেই । ডিউটি রস্টার এবং নির্দিষ্ট সরকারি প্রোটোকল মেনেই নিরাপত্তারক্ষী বদল করা হয় । এক্ষেত্রেও সেই স্বাভাবিক প্রশাসনিক রদবদলই ঘটেছে । আধিকারিকদের কথায়, সরকারি কাঠামোয় এমন ব্যক্তিগত দাবি মেনে নেওয়ার কোনও উপায় নেই ।

এই গোটা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে উঠে এসেছে এক অতীতের স্মৃতি । বর্তমান যিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অর্থাৎ শুভেন্দু অধিকারী, তিনি যখন প্রাক্তন সরকারের মন্ত্রী ছিলেন, তখন তাঁর নিরাপত্তায় যে দুই স্থায়ী পিএসও থাকতেন । পরবর্তীতে তিনি বিরোধী দলনেতা হওয়ার পর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পেলেও, প্রথম কয়েক মাস ওই দুই রাজ্য পুলিশ কর্মী তাঁর সঙ্গেই ছিলেন ।

আরও পড়ুনঃ চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি! ডিম থেরাপি এবার বানারহাটে

কিন্তু অভিযোগ, ২০২১ সালের নির্বাচনের পর তৎকালীন পুলিশমন্ত্রীর নির্দেশে ওই দুই নিরাপত্তারক্ষীকে রাতারাতি সরিয়ে দেওয়া হয় । শুধু তাই নয়, তাঁদের একজনকে সিআইডি দফতরে ডেকে জেরা পর্যন্ত করা হয় এবং পরে পুরুলিয়ায় বদলি করে সাসপেন্ড করার মতো কড়া পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল । অর্থাৎ, বিরোধী দলনেতার সাংবিধানিক পদে থাকা সত্ত্বেও শুভেন্দু অধিকারীর পুরনো পিএসও-দের রাখার আর্জি সে সময় গ্রাহ্য হয়নি ।

নবান্নের একাংশের মতে, আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও প্রশাসন সেই একই নিয়ম এবং প্রোটোকলের পথেই হাঁটছে । নির্দিষ্ট অফিসারকে ধরে রাখার জেদ প্রশাসনিক নিয়মে খাটে না, তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সামগ্রিক নিরাপত্তায় কোনও আপোস করা হচ্ছে না । এক বিজেপি বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদদের ভিডিয়ো প্রসঙ্গে বলেছেন, “মাননীয়া তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সাংসদকে দিয়ে এসব না করালেই পারতেন । সরকার যখন বলছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়ে কোনওরকম আপোস করা হবে না । সেখানে দাঁড়িয়ে সংসদের দেখানো ভিডিয়ো নাটক ছাড়া কিছু নয় ।”

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন