বঙ্গে সিভিক ভলান্টিয়ার্সদের দাপটে চোখে সর্ষেফুল দেখত সাধারণ মানুষ। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে এই স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তাঁরা যানবাহন থেকে কাটমানি আদায়, অবৈধ বালি-পাথর খনি থেকে টোল আদায় এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার কাজে ব্যবহৃত হয়েছেন। এখন রাজ্যে পালা বদলের কালে দেখা গিয়েছে বিপরীত চিত্র। এখন বিজেপি সরকারের আমলে একই সিভিক ভলান্টিয়ার্সদের ময়লা তোলা ও পরিচ্ছন্নতার কাজে লাগানো হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ‘আত্মসমর্পণ নয়’- ১১ ঘণ্টার জেরা শেষে ‘বিস্ফোরক’ অভিষেক
এই বৈপরীত্য রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।তৃণমূল শাসনকালে সিভিক ভলান্টিয়ার্সদের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ ছিল তীব্র। অনেকে বলতেন, এঁরা নিজেদেরকে আইপিএস অফিসার ভাবতেন। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে ‘চাঁদা’ আদায়, ট্রাক থেকে জোর করে টাকা তোলা, অবৈধ বালি ও পাথরের খাদান থেকে নিয়মিত টোল আদায় এসব অভিযোগ প্রায় প্রতিদিনই উঠত।
বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূমের মতো জেলায় অবৈধ খনি মাফিয়াদের সঙ্গে তাঁদের যোগসাজশের অভিযোগ ছিল সরব। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ভয়ে মুখ খুলতেন না। অনেক ড্রাইভার জানিয়েছেন, রাতের অন্ধকারে বা নির্জন রাস্তায় সিভিক ভলান্টিয়ার্সদের দেখলেই আতঙ্ক লাগত।একাধিক ঘটনায় সিভিক ভলান্টিয়ার্সদের বিরুদ্ধে মারধর, হুমকি এবং অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ পুরো হেড শট, এবার ডিম ‘খেলেন’ কুণাল ঘোষ
তাঁদের পোশাক ও আচরণ দেখে সাধারণ মানুষ মনে করতেন, এঁরা পুলিশের চেয়েও বেশি ক্ষমতাশালী। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকার এঁদেরকে বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতেও ব্যবহার করত বলে অভিযোগ। তৎকালীন বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করে বলেন এটি ছিল এক ধরনের ‘প্যারা-পুলিশ’ বাহিনী তৈরি করা, যার মাধ্যমে দলীয় স্বার্থ ও অর্থ উপার্জন চলত।
তৃণমূল উচ্ছেদ করে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিভিক ভলান্টিয়ার্সদের ভূমিকায় পরিবর্তন এসেছে। এখন তাঁদেরকে মূলত পৌরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকায় ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ, রাস্তা পরিষ্কার এবং স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার কাজে লাগানো হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে যেভাবে এদের দৌরাত্ম বেড়ে গিয়েছিল এখন বিজেপির সরকার এসে তাদের ডানা ছাঁটার কাজ করছে।


