বছরের শেষলগ্নে এসে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে শীত। বড়দিন থেকেই জম্পেশ ঠান্ডা। উত্তুরে হাওয়ার দাপটে বাংলা জুড়ে জাঁকিয়ে শীত। আজ মরশুমের শীতলতম দিন কলকাতায়। ১২ ডিগ্রিতে নামল তাপমাত্রার পারদ। বছরের শেষ কয়েকটা দিনে আরও তাপমাত্রা নামতে পারে, এমনটাই বলছে আলিপুর আবহাওয়া অফিস।
আরও পড়ুনঃ বড়দিনে বড় প্রতিভা ক্ষুদে ফুটবলারদের, জমে উঠলো গোষ্ঠপাল চ্যাম্পিয়নস ব্লু কাব্স লিগ
আজ, ২৬ ডিসেম্বর মরশুমের শীতলতম দিন কলকাতায়। গতকালের রেকর্ড ভেঙে আজ ১২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামল আলিপুরের তাপমাত্রা। কালিম্পংয়ের চেয়েও বেশি ঠান্ডা সমতলে। আবহাওয়া অফিস বলছে, আজকে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরেই থাকবে। ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকেছে শহর।
বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ক্রিসমাসের দিন ১৩ ডিগ্রির ঘরে নেমেছিল কলকাতার পারদ। শুক্রবার সেই রেকর্ডও ভেঙে গেছে। আজ শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে! আর চলতি মরশুমের এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে ঠান্ডা দিন আজই।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০১৮ সালে ২৫ ডিসেম্বর কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ঠিক ১২.৯ ডিগ্রি। বছরের শেষলগ্নে ফের সেই মাত্রায় ঠান্ডা ফিরে আসায় কার্যত শীতের ঝাঁঝ স্পষ্ট শহর জুড়েই। যদিও সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় সকলকে মাত দিয়েছে পাহাড়ের রানি – দার্জিলিং। শীতলতম দিনে ঠান্ডায় ‘ফাস্ট বয়’ এই জেলা।
রাজ্যের সব জেলা মিলিয়ে সব থেকে কম তাপমাত্রা দার্জিলিংয়ে – ৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে উত্তরবঙ্গের থেকে এই ব্যাপারে কিছুটা এগিয়েই আছে দক্ষিণবঙ্গ। কারণ একাধিক জেলায় তাপমাত্রা উত্তরের অনেক জেলার থেকে বেশি।
কোন জেলায় কত তাপমাত্রা
শ্রীনিকেতন – ৮ ডিগ্রি
বর্ধমান – ৮.৮ ডিগ্রি
কল্যাণী – ৯ ডিগ্রি
সিউড়ি – ৯ ডিগ্রি
বাঁকুড়া – ৯.২ ডিগ্রি
পুরুলিয়া – ১০ ডিগ্রি
আসানসোল – ১০.২ ডিগ্রি
পানাগড় – ১০.৬ ডিগ্রি
ক্যানিং – ১১ ডিগ্রি
দিঘা – ১১.৬ ডিগ্রি
দমদম – ১২.২ ডিগ্রি
কাঁথি- ১২ ডিগ্রি
সল্টলেক – ১৩.৫ ডিগ্রি
হাওয়া অফিস এও বলছে, আপাতত রাজ্যজুড়ে শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে। বৃষ্টির (Rainfall) কোনও সম্ভাবনা নেই। আগামী দু থেকে তিন দিনে উষ্ণতার ইঙ্গিতও নেই বলেই জানানো হয়েছে। বরং দক্ষিণবঙ্গে শীতের কামড় আরও স্পষ্ট হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ পকেটে বড়সড় ছ্যাঁকা! মধ্যবিত্তের পাতে ‘মহার্ঘ’ ডিম; চুপ সরকার, চুপ বিরোধীরা
আসলে এই মুহূর্তে এমন কোনও নিম্নচাপ বা পশ্চিমী ঝঞ্ঝা নেই, যা উত্তুরে হাওয়ার গতিকে ব্যাহত করতে পারে। ফলে বাধাহীন উত্তুরে হাওয়ার প্রভাবেই পারদের এই পতন। সেই কারণে শুধু রাত নয়, আগামী কয়েক দিন দিনের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকবে বলে পূর্বাভাস।
অনুমান করা হচ্ছে, শনিবার ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় সব জেলাতেই তাপমাত্রা কমার ধারা বজায় থাকবে। তবে রবিবার থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হতে পারে। খুব বেশি পারদ নামার সম্ভাবনা নেই।





