তৃণমূল কংগ্রেসের পরীক্ষিত কৌশলই এবার গ্রহণ করল বামফ্রন্ট । বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কলকাতার একাধিক কেন্দ্রে প্রাক্তন কাউন্সিলর ও কাউন্সিলর পদে লড়াই করা নেতাদের প্রার্থী করল সিপিএম । নির্বাচন ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম দফায় ১৯২ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট । সেই তালিকায় কলকাতার বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে দেখা গেল পুরনো কর্পোরেশন রাজনীতির পরিচিত মুখ ।
আরও পরুনঃ ‘শহিদ’ তামান্নার মা’কে প্রার্থী করল CPIM, বামফ্রন্টের তালিকায় দীপ্সিতা, বিকাশরা
গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতায় একাধিক কাউন্সিলরকে প্রার্থী করে সাফল্য পেয়েছিল । কলকাতা বন্দর থেকে ফিরহাদ হাকিম, বেলগাছিয়া–কাশীপুরে অতীন ঘোষ, রাসবিহারীতে দেবাশিস কুমার, যাদবপুরে দেবব্রত মজুমদার, বেলেঘাটায় পরেশ পাল এবং বেহালা পূর্বে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল । ফিরহাদ হাকিম ও পরেশ পাল ছাড়া বাকি অধিকাংশই প্রথমবার বিধানসভায় লড়ে জয় পান । এমনকী অতীতে দলের কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠককে বিধানসভায় পাঠিয়েছিল কংগ্রেস ৷ একইভাবে বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষকে গত উপ নির্বাচনের পর এবারও বিধানসভায় প্রার্থী করেছে বিজেপি ৷
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, সেই অভিজ্ঞতাকেই সামনে রেখে এবার একই পথে হাঁটল বাম শিবির । শুক্রবার বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন । তাতে যাদবপুর কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী করা হয়েছে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে । ২০০৫ থেকে ২০১০ পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার মেয়র ছিলেন তিনি । পরে তাঁকে রাজ্যসভাতেও পাঠানো হয়েছিল ।
বেহালা পশ্চিমে সিপিএম প্রার্থী হয়েছেন নীহার ভক্ত । তিনি ২০১০-১৫ সময়কালে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর ছিলেন । অন্যদিকে কলকাতা বন্দর কেন্দ্রে সিপিএমের প্রার্থী ফয়েজ আহমেদ খান, যিনি একাধিকবার কাউন্সিলর নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন । বিকাশ ভট্টাচার্যের মেয়র আমলে তিনি মেয়র পারিষদ হিসেবে উদ্যান বিভাগের দায়িত্বও সামলেছিলেন ।
এছাড়াও কসবা কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী করা হয়েছে দীপু দাসকে । তিনিও একাধিকবার কাউন্সিলর নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন । বেলেঘাটা কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী হয়েছেন পারমিতা রায়, যিনি অতীতে কাউন্সিলর পদে লড়েছিলেন । অন্যদিকে মানিকতলা কেন্দ্রটি সিপিআইকে ছেড়ে দিয়েছে সিপিএম । সেখানে সিপিআই প্রার্থী মৌসুমী ঘোষ, তিনিও অতীতে কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ।
বামফ্রন্ট সূত্রের খবর, শ্যামপুকুর কেন্দ্র নিয়ে জোটের শরিকদের মধ্যে কিছু মতভেদ রয়েছে । এতদিন ওই কেন্দ্রটি ফরোয়ার্ড ব্লকের দখলে থাকলেও এবার সিপিএম সেটি চাইছিল । শরিক দল ছাড়লে সেখানে প্রাক্তন সিপিএম কাউন্সিলর অজয় সাহাকে প্রার্থী করার পরিকল্পনা ছিল । তবে এখনও পর্যন্ত সেই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি ।
আরও পড়ুনঃ প্রকাশ্যে বামেদের সম্ভাব্য ছক! যাদবপুরে সুজনের বদলি বিকাশ
রাজনৈতিক মহলের মতে, কর্পোরেশন রাজনীতিতে থাকা নেতাদের বড় শক্তি হল জনসংযোগ । এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, স্থানীয় সমস্যায় সরাসরি ভূমিকা—এই অভিজ্ঞতাকেই এবার বিধানসভা ভোটে কাজে লাগাতে চাইছে বাম শিবির ।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও খুব শিগগিরই তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে পারে । দলীয় সূত্রে খবর, কয়েকটি কেন্দ্রে প্রার্থী বদলের সম্ভাবনাও রয়েছে । যদিও সবটাই এখনও জল্পনার পর্যায়ে ।







