বিশ্বজুড়ে মানুষকে চিন্তায় ফেলছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। আতঙ্ক গ্রাস করছে ক্রমশ। আবার কি লকডাউনের মতো পরিস্থিতি আসতে পারে? চিন্তায় দেশ। কিন্তু এরই মধ্যে চোখ রাঙাচ্ছে কোভিড। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নজরে এখন কোভিড-১৯-এর একটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট, যার নাম BA.3.2। ভ্যারিয়েন্টটি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। সাম্প্রতিক নজরদারি রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক অংশে এবং অন্তত ২২টি দেশে ছড়িয়েছে। গবেষকরা অনানুষ্ঠানিকভাবে এই ভ্যারিয়েন্টটির নাম দিয়েছেন “Cicada”। Cicada এমন একটি পোকামাকড়ের নাম অনুসারে, যা দীর্ঘ সময় মাটির নিচে থাকার পর হঠাৎ বেরিয়ে আসে।
আরও পড়ুনঃ সংঘাতের আঁচে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীতে মূল্যবৃদ্ধির ছ্যাঁকা
কী ধরনের ভ্যারিয়েন্ট এই BA.3.2 ?
প্রাথমিক বিশ্লেষণে জানা গেছে, BA.3.2 ভ্যারিয়েন্টটির প্রায় ৭৫টি মিউটেশন রয়েছে, যা আগের অনেক ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় অনেক বেশি। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন ঘটেছে স্পাইক প্রোটিনে, এর ফলে ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা বদলেছে। এই ভ্যারিয়েন্টটি প্রতিরোধ করতে মানুষ কতটা সক্ষম, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অর্থাৎ বর্তমানে যে কোভিড ভ্যাকসিন চালু আছে, তা আগের সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হলেও , এই BA.3.2 ভ্যারিয়েন্টটিকে আটকাতে ততটা কার্যকরী নাও হতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এর প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও তথ্য (real-world data) প্রয়োজন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম তিনজন রোগীর মধ্যে এই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়। সব রোগীই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাই এই মুহূর্তে এমন কোনও প্রমাণ নেই যে BA.3.2 আগের ভ্যারিয়েন্টগুলির তুলনায় বেশি গুরুতর ।
আরও পড়ুনঃ রফতানি বন্ধ করছে রাশিয়া; জ্বালানিতে আরও বড় কোপ
কোথায় কোথায় ছড়িয়েছে ?
সিডিসি এবং গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটা (GISAID) ডেটাবেসের তথ্য অনুসারে, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত BA.3.2 অন্তত ২৩টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সিডিসির তথ্য বলছে, ডেনমার্ক, জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডসে প্রায় ৩০% সংক্রমণ ছড়িয়েছে এই ভ্যারিয়েন্ট থেকে।
উপসর্গ
এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হলে উপসর্দ ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টগুলোরই মতো । কয়েকটি সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে:জ্বর বা হঠাৎ কাঁপুনি দেওয়া, ক্রমাগত কাশি, গলা ব্যথা, যা কখনও কখনও তীব্র কাশি, ক্লান্তি এবং শরীরে ব্যথা, মাথা ব্যথা, নাক দিয়ে জল পড়া বা নাক বন্ধ থাকা, শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব বা হজমের সমস্যা, ত্বকফুসকুড়ি বা চোখ জ্বালা করা।



