ফের এসআইআরের কাজে বাধা। এবার আটকে রাখার অভিযোগ উঠল সাত বিচারককে। সাতজনের মধ্যে চারজন মহিলা। বুধবার বিকেল ৪টের আগে থেকে তাঁদের আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। নাম বাদ পড়ায় তাঁদের আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ভোটাররা। পরপর সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রায় ২২ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে সূত্রের খবর। এবার সেই বাদ পড়া ভোটারদের বিক্ষোভ ভয়াবহ আকার নিল মালদহে।
মালদহের কালিয়াচকে ও সাত জন জুডিশিয়াল অফিসারকে দুপুর থেকে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। হাইকোর্টে ফোন করে জানানো হয় ঘটনার কথা। যোগাযোগ করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও। স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও রাত ১১টা পর্যন্ত তাঁদের কেউ উদ্ধার করতে যায়নিনি বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুনঃ ভেস্তে গেল বৈঠক; সরে যেতে চান প্রাক্তন বিচারপতিরা!
আনুমানিক বিকেল ৪টে থেকে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিস ঘেরাও করা হয়েছিল। রাত ১২টার পর ঘেরাওমুক্ত হন সেখানে আটকে থাকা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। প্রায় আট ঘণ্টা পরে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বিক্ষোভস্থল থেকে নিয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁদের মধ্যে অনেকের কাছে বৈথ নথিপত্র থাকার পরেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে গিয়েছে। সেই অভিযোগ তুলেই জায়গায় জায়গায় বিক্ষোভ, পথ অবরোধ শুরু করেন তাঁরা। মোথাবাড়ি এবং সুজাপুর এলাকায় সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন এলাকাবাসীদের একাংশ। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, বুধবার সকাল ১১টা থেকে অবরোধ বিক্ষোভ শুরু হয়। এবং তা গভীর রাত পর্যন্ত চলছে।
এ বিষয়ে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “কালিয়াচকে এসআইআর, নাম বাদ ইত্যাদি নিয়ে বিচারকদের ঘেরাও, আইনশৃঙ্খলা হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা (দেখা যাচ্ছে) কিছু মানুষের। আমরা তৃণমূলের তরফে স্পষ্ট ভাবে বলতে চাই, এই ঘটনার গোটা দায়দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। পাশাপাশি আমরা এটাও বলতে চাই, তৃণমূল কিন্তু আইন হাতে তুলে নেওয়ার কোনও চেষ্টাকে সমর্থন করে না। আমরা আইনের মধ্যে থেকে কোনও বিশৃঙ্খলা তৈরি না করে সর্বশক্তিতে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যারা এই ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, তারা বিজেপির মদতপুষ্ট দুই একটি দল। তারা এই ধরনের বিশৃঙ্কল আচরণ করছে।”

কালিয়াচকের ঘটনা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এত ক্ষণ জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে আছে। সাত জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তাঁদের আর আসতে দেওয়া হচ্ছে না। এই সমস্ত বিষয়টি প্রমাণ করছে— তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁকে দেখাদেখি তৃণমূলের অন্য নেতৃত্বও এসআইআর নিয়ে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলেছেন। সেই উস্কানিমূলক কথাবার্তার ফলই আমরা দেখতে পাচ্ছি।”
আরও পড়ুনঃ দ্বন্দ্বে জেরবার বামফ্রন্ট! ISF-কে নিয়ে ‘বিদ্রোহ ঘোষণা’ FB ও RSP-র
বুধবার বেশি রাতের দিকে সাত বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে উদ্ধার করে নিয়ে যান পুলিশকর্মীরা। পুলিশের কনভয়ে করে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ে গাড়িতে ‘হামলার’ চেষ্টা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ঘটনাস্থলের একটি গাড়ির ভিতরের দৃশ্য প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে গাড়ির সিটে কাচ ভেঙে পড়ে রয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, সাধারণ মানুষদের বিক্ষোভ চলছ, তাই তাঁদের সরাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠাতে চাইছে না কমিশন। তাঁদের বুঝিয়ে সরানোর চেষ্টা করা হবে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ডিজি-র কাছে এই ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন। এসআইআরের কাজের সঙ্গে যুক্ত জুডিশিয়াল অফিসার তথা বিচারকদের সুরক্ষা নিয়ে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তারপরও এভাবে ঘেরাও করার ঘটনা তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
শুধু এই একটা ঘটনা নয়। জালালপুর, মানিকচক সহ মালদহের প্রায় সর্বত্র বিক্ষোভের ছবি দেখা যায় এদিন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই বিক্ষোভ ভয়ঙ্কর আকার নিচ্ছে। কোথাও রাস্তার মাঝে আগুন জ্বালিয়ে চলছে বিক্ষোভ, কোথাও আটকে দেওয়া হয়েছে লরি। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে চরম বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন এলাকার মানুষ।ঘটনাস্থলে রয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।



