এবারের বিধানসভা ভোট এককথায় অভূতপূর্ব।
অন্তত গত পঞ্চাশবছরে পশ্চিমবঙ্গের কোনও ভোটে রাষ্ট্র এমন সরাসরি অংশ নেয়নি।
এযাবৎ বরাবর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। দু’একবার বাদে বরাবরই পশ্চিমবঙ্গের শাসনভার থেকেছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের বিরোধীদের হাতে।
বাম আমলের দীর্ঘ ৩৪ বছর বা তৃণমূল আমলের ১৫ বছর, বাংলায় কেন্দ্রের কোনও একদলীয় সরকারই দাঁত ফোটাতে পারেনি।
৭৭’এর পর থেকে কংগ্রেস বা ২০১৬ থেকে বিজেপি যদিও চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি।
তবু, রাজনৈতিক কাজিয়া, লড়াই, এমনকি সন্ত্রাসের গন্ডি টপকে কখনোই রাষ্ট্রযন্ত্র এভাবে মরিয়া হয়ে শাসকদলকে হারানোর চেষ্টা করেনি।
আরও পড়ুনঃ মানুষ বড্ড চুপচাপ!! সংখ্যালঘু ভোটের লড়াইয়ে আসল ছবি কী?
মজার ব্যাপার হল, বারবার একাধিক যুক্তিগ্রাহ্য কারণ ও পরিস্থিতি তৈরি হওয়া সত্ত্বেও গত পাঁচবছরে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কিন্তু ভুল করেও রাজ্যে ৩৫৫ বা ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের চেষ্টাও করেনি!
অর্থাৎ ক্ষমতাসীন দুর্নীতিগ্রস্ত, চোর, জালিয়াত, দাঙ্গাবাজ তৃণমূল সরকারকে সাংবিধানিক পদ্ধতিতেও সরানোর কথা মাথায় আনেনি কেন্দ্র!
বরং পদে পদে তাদের অতিরিক্ত সহনশীলতা, চোখ বুজে থাকা, সমস্ত দুর্নীতির তদন্ত ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত করা কোটি কোটি মানুষকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে যে দুইদলের তলে তলে সেটিং আছে।
তুমি রাজ্যে চোখ বুজে থাকবে। আর আমি কেন্দ্রে।
তাহলে এবারের ভোটে কেন বিজেপি এমন বেপরোয়াভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ল? ভাবুন!
নির্বাচন কমিশন, সুপ্রিম কোর্টসহ সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্র কেন এমন চরিত্রবিরোধীভাবে মরিয়া হয়ে উঠল?
এভাবে রাতারাতি পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসনের পুরো খোলনলচে পাল্টে, ৫৪২ জন প্রশাসনিক ও পুলিশ অফিসার/ কর্তাকে সরিয়ে ক্ষমতাসীন সরকারকে সম্পূর্ণ নিস্ক্রিয় ও নির্বিষ করে, লাখ লাখ কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে গোটারাজ্য মুড়ে এই বিরল প্রক্রিয়ায় ভোট করানোর পিছনে কী কারণ থাকতে পারে? ভেবে দেখুন!
কঠোর এসআইআর দিয়ে এককোটির কাছাকাছি নাম মুছে, সুপ্রিম কোর্টকে পুরো প্রক্রিয়ায় অভিভাবকের মত দাঁড় করিয়ে সমস্ত শাসক ও অন্য অবিজেপি বিরোধী দলগুলোকে মানতে বাধ্য করার এই পুরো প্রসেসটা কী শুধুই রাজনৈতিক চাল?
তিনমাস আগেও রাজ্যের অর্ধেকমানুষ বলতেন বিজেপি আদতে এরাজ্যে ক্ষমতায় আসতেই চায় না!
তাহলে হঠাৎ কী হল? ভোটের আগে একমাসে দু’বার সবার অগোচরে অজিত দোভাল রাজ্যে কী করতে এসেছেন?
আরও পড়ুনঃ যুদ্ধের মেজাজে বঙ্গ ভোট; কোন জেলায় কত কম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী?
সবার অলক্ষ্যে কীসের মিটিং হয় রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের নতুন বড়কর্তাদের?
হাজার হাজার বুথে সিসিটিভি ও নিশ্ছিদ্র নজরদারি ও পাহারার এমন বেনজির আয়োজন কোন উদ্দেশ্যে?
শুধুই রাজনৈতিক ক্ষমতাদখল? নাকি কোনও বৃহত্তর উদ্দেশ্য?
আটলক্ষ কোটিটাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ধুঁকতে থাকা, সবদিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া, রসাতলের দরজায় পৌঁছে যাওয়া একটা ছোট্ট রাজ্যের ক্ষমতা দখলের জন্য পুরো রাষ্ট্র এমন মরিয়া কেন?
শুধুই গদিদখলের লড়াই? নাকি আরও বড় এবং গুরুতর কোনও তাগিদ?



