পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে ফের বিজেপির প্রচারে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সবং ব্লকের সারতা গ্রাম পঞ্চায়েতের ছিনা এলাকায় বিজেপির বাড়ী বাড়ী প্রচারে বাধা তৃণমূলের। এমনই অভিযোগ তুলেছেন সবং বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী অমল পন্ডা। তিনি অভিযোগ করেছেন এই এলাকায় বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রীরা বাড়ি বাড়ি প্রচার করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তৃণমূলের তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং বহিরাগত বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রীরা অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখার সময়ই কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান সপাটে ঘুসি মারেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার মুখে।
আরও পড়ুনঃ ২৬-এ বিজেপি পেতে পারে ১৭০-১৭৪ আসন! এটাই বাস্তবতা
সবং বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী অমল পন্ডা অভিযোগ করেছেন, দু’দিন আগে রাতে মহিলা মোর্চার নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা ছিনা বুথ এলাকায় বাড়ি বাড়ি প্রচার করছিলেন। সেই সময় তৃণমূলের সমর্থকরা এসে তাদের বাধা দেয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপির দাবি, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গেলে এভাবে বাধা দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সবং ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি আবু কালাম বক্স পাল্টা দাবি করেছেন, বিজেপি রাতের অন্ধকারে ভিন রাজ্য, বিশেষত ওড়িশা থেকে বহিরাগত লোক এনে প্রচার চালাচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে প্রতিবাদে সামিল হন এবং বিজেপি কর্মীদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। তাঁর কথায়, “এটা তৃণমূলের কোনো সংগঠিত বাধা নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া।” তৃণমূলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভের সময় স্থানীয় মানুষ ১০০ দিনের কাজের টাকা কেন এখনো পাওয়া যায়নি, সেই প্রশ্নও তুলেছিলেন। ফলে ঘটনাটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, বরং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলেই তারা মনে করছে।
আরও পড়ুনঃ ‘ভোট লুঠের কৌশল’! বাসন্তীতে গোপন ‘খেলা’ চলছে? নির্দলে তৃণমূল নেতা!
এদিকে ঘটনাটি নতুন মোড় নেয় যখন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতে শুরু করে। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উত্তেজনার মধ্যে এক তৃণমূল নেতাকে ঘুষি মারছেন। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই রাজনৈতিক মহলে বেড়েছে চাপানউতোর। একদিকে বিজেপি আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে তৃণমূল এই ঘটনাকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।



