পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে উত্তেজনা যেন ক্রমশ চরমে পৌঁছাচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে একটি স্পষ্ট ও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তৃণমূলের দুষ্কৃতী, সিন্ডিকেট রাজ, দুর্নীতিবাজ ও অবৈধ খননকারী মাফিয়াদের জন্য এটাই শেষ সুযোগ।
আরও পড়ুনঃ ‘খেলা শেষ’, তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি আদিত্যনাথের
২৩ এপ্রিলের আগে নিকটবর্তী থানায় আত্মসমর্পণ করুন, নয়তো ৪ মে-র পর কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।প্রধানমন্ত্রী মোদী জঙ্গলমহলের বিশাল জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে এই বার্তা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল শাসনের অধীনে পশ্চিমবঙ্গে সিন্ডিকেট রাজ ও মাফিয়া রাজ চলছে। বিশেষ করে আসানসোলের কয়লা বেল্টে অবৈধ কয়লা খনন, বালি ও মাটি তোলার অবৈধ কারবার, কাটমানি এবং দুর্নীতির এক বিস্তৃত জাল তৈরি হয়েছে।
সাধারণ মানুষ এর চাপে নিশ্বাস নিতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই সিন্ডিকেট ও মাফিয়াদের আর কোনও স্থান হবে না। আমি শেষ সুযোগ দিচ্ছি ২৩ এপ্রিলের আগে নিকটবর্তী থানায় আত্মসমর্পণ করুন। ৪ মে-র পর কেউ রেহাই পাবে না।”এই হুঁশিয়ারির পেছনে রয়েছে বিজেপির দাবি যে, তৃণমূলের ছত্রছায়ায় দুষ্কৃতিরা দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে খেলছে। অবৈধ খনন, জমি দখল, কাটমানি এবং নানা ধরনের দুর্নীতি এসবের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলার মানুষ আর ভয়ের রাজনীতি চান না। তাঁরা উন্নয়ন চান, শান্তি চান। তৃণমূলের পাপের ঘড়া এখন পূর্ণ হয়েছে। পরিবর্তন এখন অবশ্যম্ভাবী।”স্থানীয় মানুষের মধ্যে এই বক্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আসানসোলের এক কয়লা শ্রমিক বলেন, “বছরের পর বছর আমরা সিন্ডিকেটের চাপে কাজ করতে পারি না। যারা অবৈধভাবে কয়লা তুলে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যদি সত্যিকারের অ্যাকশন হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের উপকার হবে।”
আরও পড়ুনঃ ‘পুলিশই উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করবে’, কেষ্টকে সুকান্ত
অনেকেই মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া ভাষা তৃণমূল শিবিরে ব্যাপক চাপ তৈরি করেছে।তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। দলের নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী সুবিধা নেওয়ার জন্য ভয় দেখানোর রাজনীতি করছেন। তাঁরা দাবি করেন, বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বিরোধী দলকে হয়রানি করছে।



