পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার নজিরবিহীন ব্যবস্থা করা হয়েছিল। রাজ্য জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছিল রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাস্তায় নামানো হয়েছিল সাঁজোয়া গাড়ি, এবং প্রতিটি বুথে ১০০ শতাংশ ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল যাতে ভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্ন থাকে। নির্বাচন কমিশন বারবার আশ্বাস দিয়েছিল ভোটারদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
কিন্তু এত কড়া ব্যবস্থার মধ্যেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে। শিলিগুড়ির একটি ঘটনায় সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। শিলিগুড়ির রামকৃষ্ণ পাঠশালার একটি বুথে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ তুলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন এক তরুণী ভোটার।
আরও পড়ুনঃ সত্যি হল কমিশনের আশঙ্কা; বিকেল ৪টে বাজতেই …
জানা গিয়েছে, কাজল দাস নামে ওই তরুণী এই বছরই প্রথমবার ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে তিনি বেশ উৎসাহিত ছিলেন। প্রথমবার ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে ছিল বিশেষ এক মুহূর্ত। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় হতাশা ও ক্ষোভে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিজের নির্দিষ্ট বুথে পৌঁছে পরিচয়পত্র দেখানোর পর কাজল জানতে পারেন, তাঁর ভোট আগেই পড়ে গিয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসার তাঁকে জানান যে, ভোট রেকর্ডে তাঁর নামের পাশে ইতিমধ্যেই ভোট দেওয়া হয়েছে বলে দেখাচ্ছে। এই কথা শুনে হতবাক হয়ে যান ওই তরুণী। ক্ষুব্ধ কাজল দাস জানান, “এত নিরাপত্তা, এত ব্যবস্থা করে কী হলো, যদি ভোট দিতেই না দেয়! আগে জানালে আমি এত দূর থেকে আসতাম না। এটা খুবই হতাশাজনক।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধু একটি ভোট নয়, তাঁর প্রথম গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের স্বপ্নটাই ভেঙে গেছে।
আরও পড়ুনঃ বিকেল ৪টের পরেই ঘুরে যাবে খেলা? কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আলাদা করে সতর্ক করল কমিশন
ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়ে কারণ ওই একই বুথের ভোটার হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ির বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ কিছুক্ষণ আগেই সেখানে ভোট দিয়ে গিয়েছিলেন। ঘটনাটি তাঁর কানে যেতেই তিনি জানান, বিষয়টি তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানাবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় বুথের ভেতরে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব, কে ওই ভোটার সেজে ভোট দিয়েছেন। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে দোষীর বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। শুধু তাই নয়, প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে এবং তাঁর বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।



