Wednesday, 10 June, 2026
10 June
Homeউত্তরবঙ্গDarjeeling: তিস্তার কোলে মায়ের ডাক; সেবক কালী মন্দির

Darjeeling: তিস্তার কোলে মায়ের ডাক; সেবক কালী মন্দির

১৯৫২ সালে স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্থানীয় মানুষ ও ভক্তদের বিশ্বাস, মা কালী এই গোটা পাহাড় ও জঙ্গলকে রক্ষা করেন।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ

শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটকগামী ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে তিস্তা নদীর ধারে পাহাড়ের গায়ে লাল-সাদা-সবুজ রঙে রাঙানো একটি মন্দির — সেবকেশ্বরী কালী মন্দির। চারদিকে ঘন সবুজ পাহাড়, নিচে তিস্তার ঢেউ, দূরে পাহাড় এই পরিবেশে মায়ের দর্শন করার অভিজ্ঞতা শুধু ধর্মীয় নয়, এক গভীর আত্মিক অনুভূতিও বটে। তীর্থযাত্রী ও পর্যটক — উভয়ের কাছেই সেবক কালী মন্দির উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান গন্তব্য।

মন্দিরের ইতিহাস ও বিশেষত্ব:

১৯৫২ সালে স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্থানীয় মানুষ ও ভক্তদের বিশ্বাস, মা কালী এই গোটা পাহাড় ও জঙ্গলকে রক্ষা করেন। স্বাধীনতার পর সিকিম বা পাহাড়ে যাওয়ার আগে জওয়ানরাও এখানে পুজো দিয়ে যাত্রা শুরু করতেন।

তবে স্থানীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী মন্দিরটি ব্রিটিশ আমল থেকেই বিদ্যমান। শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটকগামী ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারেই সেবক পাহাড়ের গায়ে অবস্থিত বিখ্যাত সেবকেশ্বরী কালী মন্দির। সেবকের মূল রাস্তা থেকে পাহাড়ের উপরে ১০৭টি সিঁড়ি বেয়ে এই জাগ্রত কালী মন্দিরে প্রবেশ করতে হয়।

এখানে মূল দেবী দক্ষিণা কালীরূপে পূজিতা হন।মন্দিরের ভেতরে রয়েছে দেবী কালীর বিশাল মূর্তি এবং একটি শিবলিঙ্গ। ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যে নির্মিত মন্দিরের দেওয়ালে সূক্ষ্ম কারুকাজ ও ভাস্কর্য দর্শনীয়। তিস্তা নদীর তীরে পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত এই মন্দির থেকে চারদিকে  সবুজ পাহাড় আর তিস্তার ঝলমলে দৃশ্য অনেক পর্যটকের মনে গভীর ছাপ ফেলে যায়।

মন্দিরটি এলাকায় অত্যন্ত জাগ্রত বলে বিশ্বাস করা হয়। নবদম্পতিরা বিবাহের পর মায়ের আশীর্বাদ নিতে এখানে আসেন — এই প্রথা বহু বছর ধরে চলে আসছে।

আরও পড়ুনঃ “গুপ্তচরদের ডিজনিল্যান্ড”! ভেতর থেকেই সাহায্য ‘পুস্পাকে’! সর্ষের মধ্যে এখনো অনেক অনেক ভূত

কী দেখবেন আশেপাশে

করোনেশন ব্রিজ (সেবক ব্রিজ):

তিস্তা নদীর উপর বিস্তৃত করোনেশন ব্রিজ সেবকের একটি আইকনিক স্থাপত্য নিদর্শন। ১৯৪১ সালে রাজা ষষ্ঠ জর্জের রাজ্যাভিষেকের স্মরণে এই সেতু নির্মিত হয়েছিল। সেতুর উপর থেকে তিস্তার খরস্রোতা দৃশ্য ও চারদিকের সবুজ পাহাড় এক অপূর্ব ফটোগ্রাফির সুযোগ তৈরি করে।

কালিঝোরা:

কালিঝোরা সেবক থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে একটি উদীয়মান পিকনিক স্পট। তিস্তার ধারে ছোট্ট এই জায়গাটি বনভোজনের জন্য স্থানীয়দের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়।

আরও পড়ুনঃ মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি! ভারতীয়দের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ 

উৎসব

নবরাত্রি ও দুর্গাপূজায় মন্দির ভক্তদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে। কালীপূজায় মন্দির আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয় এবং বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয়। এই সময়ে এলে মন্দিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশ অনুভব করা যায় ভিন্নভাবে।

কীভাবে যাবেন

সেবক কালী মন্দির শিলিগুড়ির মূল শহর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে — পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা লাগে। বাগডোগরা, শিলিগুড়ি ও এনজেপি থেকে ট্যাক্সি ভাড়া করে বা শেয়ার ট্যাক্সি ও অটোতে সহজেই পৌঁছানো যায়।

ট্রেনে — নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন নিউ জলপাইগুড়ি জংশন (এনজেপি), যেখান থেকে মন্দিরের দূরত্ব প্রায় ২৭ কিলোমিটার। কলকাতা থেকে দার্জিলিং মেল বা পদাতিক এক্সপ্রেসে এনজেপি এসে সেখান থেকে ট্যাক্সিতে মন্দিরে পৌঁছানো যায়।

বিমানে — নিকটতম বিমানবন্দর বাগডোগরা, যেখান থেকে মন্দিরের দূরত্ব প্রায় ৩৩ কিলোমিটার। কলকাতা থেকে বাগডোগরায় মাত্র এক ঘণ্টার উড়ান।

শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটকগামী যেকোনো গাড়িতে উঠলেই সেবকে নামিয়ে দেওয়া হয় — শেয়ার ট্যাক্সিতে খরচ অনেক কম।

প্রয়োজনীয় পরামর্শ

মন্দিরে প্রবেশের আগে জুতো খুলুন ও পোশাকবিধি মেনে চলুন। ১০৭টি সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয় — শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলে কোনো অসুবিধা নেই। বর্ষায় সিঁড়ি পিচ্ছিল হতে পারে — সাবধানে উঠুন। ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনে ছবি তোলার আগে মন্দির কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিন।

সেরা সময়: অক্টোবর থেকে মার্চ — আবহাওয়া মনোরম এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায়। নবরাত্রি ও কালীপূজায় এলে উৎসবের পরিবেশ উপভোগ করা যায়।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন