রানা দাস, জলপাইগুড়িঃ
জাহাঙ্গীরের ব্যাপারে বেশিরভাগ মিডিয়া একটা ব্যাপার হয় লুকোচ্ছে, অথবা জানেই না।
নেপালের কলঙ্ক কমরেড কে পি ওলির আমলে, একটি নামকরা হিন্দি সিনেমায় কাঠমান্ডুকে এই কয়েক বছর আগেও “গুপ্তচরদের ডিজনিল্যান্ড” বলা হয়েছিল। কারোর মনে আছে কোন সিনেমা সেটি?
তখন মনে করা হতো কাঠমান্ডুতে কাবুলের থেকে বেশি সংখ্যায় নানা দেশের গুপ্তচর রয়েছে।
আগের বছর রাম নবমী হয়েছিল ৬ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে, শনিবার।
ধুলিয়ানে দাঙ্গার ঠিক ছয়দিন আগে।
অর্থাৎ রাম নবমীতে রাজ্যে কোথাও অশান্তি না হলেও এক সপ্তাহের মধ্যে ধুলিয়ান জ্বলে গেছিল।
পরিষ্কার মনে আছে কারণ ধুলিয়ানের ঘটনা তো মনে আছেই, সেটা ছাড়াও আগের বছর ওয়াকফ বিলের প্রাক্কালে আমরা রাম নবমীর শোভাযাত্রায় অশান্তি হয়ে মারধোর খেতে পারি বলে প্রিপেয়ার্ড হয়ে বেরিয়ে ছিলাম। সৌভাগ্যক্রমে কিছু হয়নি।
সন্ধ্যে অব্দি শোভাযাত্রা সামলে পরের দিন অর্থাৎ 7 এপ্রিল সকালে আমি সড়কপথে নেপাল গেছিলাম একটা মন্দির দেখতে। একজন বন্ধুর সাথে গেছিলাম। নেপালের অনেকটা ভেতরে সেই প্রথম যাওয়া এবং তখনই নেপালের ট্র্যাফিকের ব্যাপারে অল্পস্বল্প কিছু ডিটেলস জেনে এসেছিলাম।
জাহাঙ্গীরকে বাগডোগরা যে গাড়িতে আনা হয়েছে, সেটা সেই বন্ধুই আমাকে খেয়াল করালো।
গাড়িটির নম্বর প্লেট লাল রংয়ের ও ছবিটি দেখে মনে হচ্ছে তাতে লেখা নম্বর রেজিস্ট্রেশনটি হিন্দি জাতীয় কোনো হরফের।
এটি কোনোভাবেই ভারতে রেজিস্টার্ড কোনো গাড়ি হতেই পারে না।
ভারতে লাল নম্বর প্লেটের গাড়ি হয় কোনো টেম্পোরারি নম্বর, অথবা গাড়ি কোম্পানির টেস্টিংয়ের গাড়ি, অথবা অত্যন্ত উঁচু পদের সরকারি অফিসাররা পেয়ে থাকেন।
আরও পড়ুনঃ অবসান লুকোচুরির; গ্রেফতার ফলতার ‘পুষ্পা’
অর্থাৎ, হতেই পারে যে জাহাঙ্গীরকে নেপাল বর্ডার থেকে ধরা হয়নি, তাকে নেপালের ভেতরের কোথাও থেকেই তাকে ধরা হয়েছে। সেটা হলে ভারত সরকারের ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেল সরাসরি বাহবা পাওয়ার যোগ্য।
অথবা, আরো বেশি করে যেটা সম্ভাবনা, হয়তো জাহাঙ্গীর পালাচ্ছিল নেপালের নম্বরের কোনো গাড়ি ভারতের দিক থেকেই ম্যানেজ করে।
সেটা আরো বেশি করে স্বাভাবিক কারণ বর্ডারে দেখেছি ভারত থেকে নেপালের ফিরতি গাড়ি গুলোর ব্যাপারে নেপাল সরকার খুব বেশি কিছু চেক করেই না, কিছুটা স্বাভাবিকও তাদের ক্ষেত্রে।
আর ফলতা থেকে নেপাল যাওয়ার গুগল ম্যাপের রোড রুটও পারলে কমেন্টে দেখুন, এতগুলো জেলা ও প্রায় তিনটি স্টেট এড়িয়ে সে নেপালে কীকরে যেতে পেরেছে জানিনা, যদি না ভেতর থেকেই তাকে কোনোভাবে সাহায্য করা হয়।
নেপালে যে রাস্তা দিয়েই যাওয়া হোক, আপনাকে বেসিক আইডি দেখাতেই হবে। তারপরে সেটা নোট করে পারমিট তৈরি হয়।
যদি না ভারত ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভেতর থেকে কোনো সরকারি কর্মী তাকে সাহায্য করে থাকে তাহলে সে বর্তমানে রাজনৈতিক ভাবে এতটা পরিচিত হওয়ার পরে ফলতা থেকে এতদূর পৌঁছতে পারত না।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূল মানেই কি খাট কালচার! পিছিয়ে নেই জাহাঙ্গীর
ভারত সরকারের এবার উচিত হবে নেপালের বর্ডারেও গুরুত্ব দেওয়া। নেপাল সরকার ছেড়ে দিলেও ভারত সরকার যেন ডিটেলস খুঁটিয়ে দেখে।
ভুলে যাবেন না, জাহাঙ্গীর ধরা পড়লে ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়াকে চ্যানেল জানানো একটা কুখ্যাত মডেলের স্বরূপ সম্পূর্ণ ভাবে এক্সপোজ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সর্ষের মধ্যে এখনো অনেক অনেক ভূত ঢুকে বসে আছে…..


