উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়িতে ফের বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। মাদক পাচার রুখতে নিউ জলপাইগুড়ি থানার বিশেষ অভিযানে ধরা পড়ল এক দম্পতি, যাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে কয়েক লক্ষ টাকার ব্রাউন সুগার। এই ঘটনায় শহরজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, পাশাপাশি পুলিশের তৎপরতা নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন খবরের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালায় নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের সাদা পোশাকের একটি বিশেষ দল। অভিযান চালানো হয় কাওয়াখালী এলাকার বিশ্ববাংলা গেট সংলগ্ন অঞ্চলে। ওই সময় একটি স্কুটিতে করে যাচ্ছিলেন এমডি জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী সাবো বেগম। সন্দেহজনক আচরণ নজরে আসতেই পুলিশ তাঁদের থামায় এবং তল্লাশি শুরু করে।
আরও পড়ুনঃ ভোটের আগে স্পর্শকাতর এলাকায় NIA-র বিশেষ তদারকি
স্কুটির ডিকি খুলতেই পুলিশের চোখ চড়কগাছ। ভিতর থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৩০০ গ্রাম ব্রাউন সুগার, যার বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয় এবং মাদক বাজেয়াপ্ত করা হয়। ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।
জেরায় ধৃতরা জানিয়েছে, তারা বিহারের কিষাণগঞ্জ এলাকা থেকে এই মাদক সংগ্রহ করে শিলিগুড়িতে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসছিল। তবে এই মাদক শহরের ঠিক কোন এলাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল এবং এর পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এর পিছনে বড়সড় একটি চক্র কাজ করছে, যার হদিশ পেতেই এখন জোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ “চাইলে কমিশনকে রিপোর্ট দিতে পারেন ‘সিংহম’ অজয়পাল”, নিজে থেকে সিইও দফতর চাইবে না” জানিয়ে দিলেন মনোজ
পুলিশের দাবি, ধৃত জাহাঙ্গীর ও সাবো বেগম পেশাদার অপরাধী। এর আগেও তারা অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশের নজরে ছিল। ফলে এই গ্রেফতারি শুধু একটি মাদক উদ্ধার নয়, বরং একটি বড় পাচারচক্র ভাঙার দিকেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। এদিন ধৃতদের জলপাইগুড়ি কোর্টে পেশ করা হয়েছে। পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়, যাতে এই চক্রের মূল পান্ডাদের খুঁজে বের করা যায়। আদালতে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে বলে জানা গেছে।
শিলিগুড়ি শহর দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে এই এলাকাকে ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের কড়া নজরদারি এবং একের পর এক অভিযানে এই চক্রগুলির উপর বড় ধাক্কা পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


