রাজ্যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও নারী নির্যাতন এই দুই দিক নিয়ে তদন্তের জন্য কমিটি গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুই কমিশনের নেতৃত্ব দেবেন কলকাতা হাই কোর্টের দুই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তবে এরই মধ্যে চমকপ্রদ ঘটনা হল, নারী নির্যাতন সংক্রান্ত যে কমিটি মুখ্যমন্ত্রী তৈরি করছেন, সেই কমিটির অন্যতম সদস্য হলেন আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেন।
এককালে বাংলার ‘সুপার কপ’ দময়ন্তী সেন ছিলেন ২০১২ সালের চাঞ্চল্যকর পার্কস্ট্রিট ধর্ষণকাণ্ডের তদন্তকারী অফিসার। সেই সময় বাংলার তখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ঘটনা নিয়ে মমতার মন্তব্যের পর সরব হতে থাকেন বিরোধীরা। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলকাতার পার্কস্ট্রিটে মহিলার ধর্ষণ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানোতর শুরুর মাঝেই তদন্তকারী পুলিশ টিম পাকড়াও করে তিনজনকে। এদিকে, এই ধর্ষণকাণ্ডে অভিযোগের তির ছিল কাদের খান সহ বেশ কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে।
পার্কস্ট্রিট মামলার পর থেকে সেভাবে আর বড় কোনও মামলায় দেখা যায়নি দময়ন্তী সেনকে। এরপর কেটে যায় বহু বছর। পার্কস্ট্রিট গণধর্ষণ মামলার নির্যাতিতারও মৃত্যু হয়। পার্কস্ট্রিটের পর কামদুনি, সেখানেও ধর্ষণ মামলা নিয়ে সরব হন এলাকাবাসী। তার কিছু বছর পর বাংলার বুকে আর জি কর কাণ্ড ঘটে। গোটা বাংলা তোলপাড় হয়। আরজি কর হাসপাতালের ভিতরে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় প্রতিবাদে নামেন মানুষ। বিরোধীরা সরব হয় তৎকালীন মমতা সরকারের বিরুদ্ধে। এরপর ২০২৬ সালের ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের শোচনীয় পরাজয়।
আরও পড়ুনঃ পার্কসার্কাস কাণ্ডে তৎপর কলকাতা পুলিশ! গ্রেফতার বেড়ে ৪০
নতুন সরকার গড়েই বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী তাবড় কমিটিতে নিয়ে এলেন সেই দময়ন্তী সেনকে। রাজ্যে নারী নির্যাতন সংক্রান্ত কমিটিতে তিনি সদস্য। যে কমিটির প্রধান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। এই কমিটি নারী নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখবে।আগামী পয়লা জুন থেকে এই কমিটি কাজ শুরু করবে।
কলকাতার সেন্ট্রাল ও নর্থ, দুটি জোনেই ডেপুটি কমিশনারের পদ সামলেছেন দময়ন্তী। অর্থনীতির এই ছাত্রী কলকাতা পুলিশের প্রথম মহিলা জয়েন্ট কমিশনার হিসাবে পদে ছিলেন। বহু দিন কলকাতার ডিটেক্টিভ ডিপার্টমেন্টেও দায়িত্বভার সামলেছেন দময়ন্তী সেন।



