গতকাল অর্থাৎ বুধবার পাপিয়া অধিকারী জানিয়ে দিয়েছিলেন, টলিপাড়ার অন্দরে আর চলবে না দাদাগিরি। পুরনো ফেডারেশনের আওতায় ছিল ২৬টি গিল্ড, যেটা ভেঙে দিয়ে টলিউডে গতকাল আত্মপ্রকাশ করে নতুন কনফেডারেশন- ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যান্ড সিনে ক্রাফটস কনফেডারেশন’ বা ‘EIMPCC’।
কিন্তু একদিন পার হতে না হতেই ফের ফেডারেশনের বৈঠকে হল তুমুল অশান্তি। এই দিন টেকনিশিয়ান স্টুডিওর বাইরে ছোড়া হল ডিম, হল ইট বৃষ্টি। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে তড়িঘড়ি পৌঁছে যায় রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ বিস্ফোরক রাহুল, ‘নরেন্দ্র মোদী আর একবছরও…,’ দেশে জরুরি অবস্থার অশনিসংকেত?
সূত্র অনুযায়ী জানা গিয়েছে, এতদিন ফেডারেশনের ম্যানেজার গিল্ডের সম্পাদক ছিলেন মহম্মদ হাসান এবং সহ-সম্পাদক ছিলেন বাবাই। গতকাল এই দুজনকেই পদ ছাড়ার কথা বলা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় টেকনিশিয়ানরা একটি বৈঠক ডাকেন, যেখানে উপস্থিত হন বহু টেকনিশিয়ান।
একসঙ্গে এত টেকনিশিয়ানদের নিয়ে স্টুডিওয়ে বৈঠক করা সম্ভব নয় বলে পাশের মাঠে বৈঠক শুরু হয়। কিন্তু টেকনিশিয়ানদের মধ্যে দুটি দল আলাদা হয়ে যান। কিছু মানুষ ছিলেন যারা হাসান এবং বাবাইয়ের সমর্থক ছিলেন আর কিছু মানুষ ছিলেন যারা চান না টলি পাড়ায় আর কোনও রাজনীতি হোক।
এরপরই হঠাৎ করে হাসান এবং বাবাইয়ের বিরুদ্ধে ‘চোর’ ‘চোর’ স্লোগান শোনা যায়। অন্যপক্ষ ছুঁড়তে থাকে ডিম এবং ইট। পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যায় কিছুক্ষণের মধ্যেই। আহত হন বেশ কিছু টেকনিশিয়ান। পরিস্থিতি সামলাতে সেখানে উপস্থিত হতে হয় পুলিশকে।
আরও পড়ুনঃ কোণঠাসা মেয়র গৌতম! অন্দরে চওড়া ফাটল, গদি টলমল
টেকনিশিয়ানদের এক পক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, বাবাই এবং হাসান নিজেদের পদ ছাড়তে চাইছেন না। এছাড়াও এই দুজনের কাজ এবং সম্পত্তি নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। টলিউডের ‘ব্যান কালচার’ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে বাবা এবং হাসানের বিরুদ্ধে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী আরও জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় যে এত মানুষের জমায়েত হবে, সে কথা আগে থেকে জানা ছিল না। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতেই পুলিশ তড়িঘড়ি পরিস্থিতি সামাল দেন এবং গোটা ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।



