লুকোচুরির অবসান। অবশেষে গ্রেফতার ফলতার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খান। রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স-এর জালে ধরা পড়ে এই তৃণমূল নেতা৷ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন তিন৷ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করেন গোয়েন্দারা। পুলিশের দাবি, নেপাল হয়ে সীমান্ত পার করে বিদেশে গা-ঢাকা দেওয়ার এক সুচারু ছক কষেছিল জাহাঙ্গির, কিন্তু সীমান্ত পেরোনোর আগেই তার সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিল এসটিএফ।
আরও পড়ুনঃ আজ ৪০ থেকে ৫০ কিমি বেগে আসছে ঝড়, সঙ্গে তুমুল বৃষ্টি
জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও বিতর্কের সূত্রপাত ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের বেশ আগে, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় থেকেই। অভিযোগ ছিল, সে সময় বিএলও-দের ওপর গায়ের জোর খাটিয়ে মৃত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত করাতেন জাহাঙ্গির। এই মারাত্মক কারচুপির বিরুদ্ধে খোদ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সরব হয়েছিলেন। এরপর নির্বাচন যত এগিয়ে আসে, এলাকায় সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখানো এবং ভীতিপ্রদর্শন করার অভিযোগ আরও জোরালো হতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নির্বাচন কমিশন উত্তরপ্রদেশের কুখ্যাত এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট তথা দুঁদে আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে ফলতায় পাঠায়।
বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা নিজে ফলতায় গিয়ে জাহাঙ্গিরের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তাকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে আসেন। পুলিশের সেই দাপুটে বার্তার পাল্টা জবাব দিতে গিয়েই জাহাঙ্গির খান অহংকারের সুরে নিজেকে সিনেমার চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করে ‘পুষ্পা’ বলে অ্যাখ্যায়িত করেছিলেন, দাবি করেছিলেন তিনি কারও সামনে ঝুঁকবে না। ফলতার মূল নির্বাচনে ইভিএম মেশিনে সেলোটেপ লাগিয়ে দেওয়ার মতো বেনজির কারচুপির অভিযোগ ওঠায় কমিশন সেখানে পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা করে। গত ৪ মে নির্বাচনের মূল ফলাফল ঘোষণার পর, ২১ মে ওই বিতর্কিত কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ হয়। এই দীর্ঘ টালবাহানায় জাহাঙ্গিরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জমি কার্যত ‘শুকিয়ে’ যেতে শুরু করে। কোণঠাসা হয়ে শেষমেশ ভোটের মাত্র দুদিন আগে সে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
আরও পড়ুনঃ বাড়ল অনুপ্রবেশ বিতর্ক! শিলিগুড়ি জংশনে ৮ বাংলাদেশি
ভোটের ময়দান থেকে পিছু হটার পর থেকেই পুলিশি গ্রেফতারি এড়াতে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন জাহাঙ্গির। আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে সে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে গ্রেফতারির বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ চেয়েছিল। তবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও আদালতে পাল্টা আবেদন জানিয়ে সেই রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের দাবি তোলা হয়। একদিকে আদালতের আইনি চাপ এবং অন্যদিকে পুলিশের ক্রমাগত তাড়া, এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাড়েই দেশ ছেড়ে পালানোর পথ বেছে নিয়েছিল ফলতার এই ডন। নেপাল সীমান্ত থেকে তার এই গ্রেফতারি ফলতার সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিনের সন্ত্রাস থেকে বড়সড় স্বস্তি দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


