পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেশ বিরোধী মন্তব্যের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বে লালবাজারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে অখিলভারত হিন্দুমহাসভা ।
আরও পড়ুনঃ ‘টর্চার রুম ছিল, সেখানে উলঙ্গ করে….’; গ্রেফতারির লাইনে তৃণমূল নেতারা
এবার সেই লিখিত অভিযোগের কপি সহ চিঠি লিখে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এবং রাজভবনে রাজ্যপাল আর.এন.রবির কাছে চিঠি জমা দিয়ে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে মমতার গ্রেপ্তারি দাবী করলো ভারতের অন্যতম প্রাচীন এই ঐতিহ্যশালী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ।

হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর বক্তব্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো আইনের ঊর্ধ্বে নন বা মঙ্গল গ্রহ থেকেও আসেননি । ইতিপূর্বে ইডি সিবিআই এর গুরুত্বপূর্ণ ফাইল চুরি করা, সেনাবাহিনীর জওয়ানদের বিরুদ্ধাচরণ করা, বিএসএফকে জমি না দেওয়ার মত একাধিক ভারত বিরোধী কাজ করেছেন মমতা ।

আর এবার তো প্রকাশ্য সমাবেশে বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াশীল নেতা ওসমান হাদির খুনের ঘটনায় সরাসরি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে দায়ী করে উনি দেশদ্রোহিতার সমস্ত সীমা অতিক্রম করে গেছেন । তাহলে কেন গ্রেপ্তার হবেন না মমতা ? ওনার বক্তব্যের জেরে একদিকে সারা পৃথিবীর কাছে ভারতের মান মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং দেশের বিদেশনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ।

দ্বিতীয়ত বাংলাদেশে মৌলবাদী গোষ্ঠী আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং ওই দেশে বসবাসকারী কোটির উপর নিরপরাধ সংখ্যালঘু হিন্দুদের জীবনে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি দেখা দিয়েছে । শুধু তাই নয় পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের বেশ কিছু জায়গায় হিন্দু মুসলমানের মধ্যে দাঙ্গা লাগানো এবং তারপর সেই ঘোলা জলে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা মমতার আসল উদ্দেশ্য । সবচেয়ে বড় কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের কোন সত্যতা বা বাস্তবতা নেই ।

দেশের সম্মানের বিনিময়ে এবং মানুষের লাশের উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করার এই নোংরা মানসিকতাই আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের শেষের কারণ । আমরা আরেকটি বিষয় খুব স্পষ্ট ভাবে খেয়াল করছি বাংলাদেশের বর্ডার অঞ্চল গুলোতে যেখানে জামাত ই ইসলাম জিতেছে তার ঠিক বিপরীতেই ভারতীয় বর্ডার অঞ্চলে হয় তৃণমূল জিতেছে আর নাহলে ভালো ভোট পেয়েছে ।

তাহলে এখানে অনুপ্রবেশকারী জিহাদী মুসলমানরাই কি এই ভোটের খেলার আসল কারিগর ? তারা হয়ত ভোটের সময় বর্ডার পেরিয়ে দুই দেশেই ভোট দেয় । কিন্তু বর্তমান বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও ভারত সরকারের যৌথ উদ্যোগে বর্ডারে কাঁটা তারের বেড়া দেওয়া হলে যেহেতু জিহাদী সন্ত্রাসবাদীরা আর এই দেশে আসতে পারবেনা সেটা ভেবেই মমতা এত উগ্র দেশবিরোধীতায় নেমেছে । এই অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী মুসলমানদের ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করার উদ্যেশ্যেই মমতা এতদিন ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দিতে দেননি অথচ কেন্দ্র সরকারের উপর দোষ চাপিয়ে গেছেন ।
আরও পড়ুনঃ ‘ত্রাণের ভাণ্ডার’! নির্বাচনের পরাজয়ের পরই সামনে আসছে তৃণমূলের আসল চেহারা
আমরা চাই এই সমস্ত ঘটনা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং সর্বোপরি নরেন্দ্র মোদি জির নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার যেন একজন জিহাদী সন্ত্রাসবাদী হিসেবে বিচার করেই মমতাকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেয় । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের জেরে রাজ্য রাজনীতি যে আরও উত্তাল হতে চলেছে সেই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই ।


