মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এ বার ১০ জনপথে গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দিল্লির ১০ জনপথে সনিয়া গান্ধীর বাসভবনে গিয়ে কংগ্রেস নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। আর বুধবার সকালে ওই বাড়িতেই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ পিঠে ছুরি দুঃসময়ে! অভিষেকের সঙ্গেই ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করলেন তাঁরই ‘সেনাপতি’ সায়নী ঘোষ
তৃণমূল সূত্রে খবর, রাহুল এবং অভিষেকের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বৈঠক হয়। দু’জনের মধ্যে ‘ইতিবাচক বৈঠক’ হয়েছে বলে ওই সূত্রের দাবি। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে দুই নেতার মধ্যে। কী ভাবে, মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে বিজেপি বিরোধিতার প্রশ্নে দলগুলি এককাট্টা হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। তবে তৃণমূল সূত্রে খবর, বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথাবার্তা বলেছেন রাহুল এবং অভিষেক।
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর একের পর এক ধাক্কা খাচ্ছে তৃণমূল। পরিষদীয় দলের পর সংসদীয় দলেও ভাঙন ধরেছে। তৃণমূলের ২০ জন লোকসভার সাংসদ ‘বিদ্রোহী’ হয়ে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-কে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রাহুল-অভিষেক বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দুর্দিনে কংগ্রেসকে আঁকড়ে ধরে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন মমতা এবং অভিষেক। সেই কারণেই মমতা-সনিয়া বৈঠকের পরের দিনই অভিষেক রাহুলের দুয়ারে গেলেন বলে মনে করছেন অনেকে।
আরও পড়ুনঃ বাড়ছে চাপ? অভিষেকের গতিবিধি জানতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ সিআইডির
সোমবারই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে মমতা এবং সনিয়ার সৌজন্যসাক্ষাৎ হয়েছিল। একে অপরকে আলিঙ্গন করেছিলেন তাঁরা। তার পরের দিন বিকেলেই সনিয়ার বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন মমতা। ঘটনাচক্রে, সেই সময়েই আবার সই জাল-কাণ্ডের তদন্তে মমতার বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ।
কংগ্রেসে থাকাকালীন রাজীব গান্ধীর অত্যন্ত প্রিয়পাত্রী ছিলেন মমতা। সেই সূত্র ধরেই সনিয়ার সঙ্গে মমতার রসায়ন বরাবরই ভাল। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল গড়লেও গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভেঙে যায়নি। জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুতে রাহুলের সঙ্গে মমতার মতপার্থক্য সামনে এসেছে একাধিক বার। কিন্তু সনিয়া-মমতা সম্পর্কে প্রকাশ্যে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। রাহুলকে একাধিক বার নিশানা করলেও প্রকাশ্যে সনিয়ার সমালোচনা করতে দেখা যায়নি তৃণমূলনেত্রীকে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটে ভরাডুবির পরে প্রকাশ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে সহযোগিতার বার্তাও দিয়েছেন মমতা।
কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস গড়েছিলেন। আবার কংগ্রেসেই ফিরতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনের পর জল্পনা আবার কংগ্রেসে ফিরতে পারেন মমতা। সূত্রের খবর, কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সনিয়া গান্ধী এই প্রস্তাব দিয়েছেন।
২৮ বছর পর ঘরে ফিরবেন মমতা? সত্যি উঠে যাবে মমতার হাতে গড়া তৃণমূল কংগ্রেস? সূত্রের খবর, সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতের পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যও। অভিষেককে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রস্তাব দিয়েছেন রাহুল গান্ধী।


