ভারত ও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা তেকে উদ্ধার হল একটি ড্রোন৷ শিলিগুড়ির ফুলবাড়ি এলাকায় এই ড্রোনটি উদ্ধার হয়৷ ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে, সেখান থেকে ভারত ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের দূরত্ব দুই কিলোমিটার৷
আরও পড়ুনঃ “পুষ্পা ঝুকেগা নেহি” থেকে একেবারে হাফ প্যান্টের প্যারেড! মুখ টিপে হাসল ফলতা
একটি অজানা ড্রোনের উপস্থিতি কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে সংযুক্তকারী ‘চিকেনস নেক’ করিডরের এত কাছে ড্রোনের এই অনুপ্রবেশ জাতীয় নিরাপত্তার নিরিখে যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাবগ্রাম পুলিশ ব্যাটালিয়নের আকাশসীমায় হঠাৎ করেই ড্রোনটিকে উড়তে দেখা যায়। বেশ কিছুক্ষণ এলাকা চক্কর দেওয়ার পর ড্রোনটি ব্যাটালিয়নের সামনে এসে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়৷ তারা সেখানে পৌঁছে ড্রোনটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে ড্রোনের মালিকানা বা এটি কোন উদ্দেশ্যে এলাকায় আনা হয়েছিল, সেই সম্পর্কে কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে যেহেতু এলাকাটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অতি নিকটে এবং দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ করিডরের অন্তর্ভুক্ত, তাই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এটি কি নিছক কোনও ব্যক্তিগত শখের ড্রোন, নাকি এর পেছনে কোনও নাশকতামূলক নজরদারি বা অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ অভিষেককে ডিম ছুড়তে এলেন সুদূর দিল্লি থেকে; ছোড়া হল না, আক্ষেপ দিল্লিবাসী উদিতা দাসের
পুলিশ-প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ড্রোনটির প্রযুক্তিগত ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। এর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং এর মেমোরি কার্ডে কোনও সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে কি না, তা জানতে বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। চিকেনস নেক করিডরের সুরক্ষায় কোনও ফাঁক আছে কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বর্তমানে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও সীমান্ত নিরাপত্তারক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সঙ্গেও এই নিয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ড্রোনটির প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করতে এবং এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এখন জোর তৎপরতা চালাচ্ছে নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ।


