বিদেশ থেকে ট্রাম আনার পরিকল্পনা করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, অস্ট্রেলিয়ায় যেমন হালকা এবং আধুনিক ট্রাম চালানো হয়, সেরকমই কলকাতায় চালু করা যায় কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেইসঙ্গে নতুন করে যাতে কলকাতায় ট্রাম পরিষেবাকে চাঙ্গা করে তোলা যায়, সেদিকে রাজ্য সরকার বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে বলে পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর।

পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, ‘ট্রাম তুলে দেওয়ার কোনও প্রশ্নই উঠছে না। বরং আমার (ট্রাম) পরিষেবাকে ঘুরে দাঁড় করাব। আপাতত মাত্র দুটি রুটে ট্রাম চলছে। আরও কোন কোন রুটে ট্রাম চালানো সম্ভব হবে, তা নিয়ে সমীক্ষা করে দেখব আমরা।’
ফেলে-ফেলে নষ্ট করা হয়েছে ট্রাম, বিস্ফোরক মন্ত্রী
তিনি জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের চূড়ান্ত গাফিলতির জন্য ডিপোয় পড়ে থেকে-থেকে অনেক ট্রাম নষ্ট হয়ে গিয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ লাটে তুলে দেওয়ায় সেইসব ট্রামকে ফের রাস্তায় নামানো যাবে না। সেগুলিকে সারাতে গেলেও অনেক খরচ হবে। সেই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে হালকা এবং আধুনিক ট্রাম কেনার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ কলকাতার রাস্তায় ছুটবে হাই-স্পিড ট্রাম
অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছে ট্রাম-প্রস্তাব
সেই রেশ ধরে তিনি বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া থেকে কয়েকটি প্রস্তাব এসেছিল। আমরা ওদের সঙ্গে আলোচনা করব। কলকাতায় কীভাবে ফের ট্রামকে চাঙ্গা করা যায়, তা নিয়েও সমীক্ষা চালাব।’
আরও পড়ুনঃ ৪২ জন শিল্পপতির যোগাযোগ রাজ্যে বিনিয়োগ করতে চেয়ে
এসপ্ল্যানেড-খিদিরপুর রুটে চালু হবে ট্রাম?
আপাতত কলকাতায় স্রেফ দুটি রুটে (এসপ্ল্যানেড-শ্যামবাজার রুট এবং এসপ্ল্যানেড-গড়িয়াহাট রুট) কার্যত নমো-নমো করে ট্রাম চালানো হয়। পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, ক্ষমতার পালাবদলের পরে রাজ্য সরকার যে রুটগুলিতে ট্রাম ফেরানোর পরিকল্পনা করছে, তার মধ্যে অন্যতম হল এসপ্ল্যানেড-খিদিরপুর। ময়দানের সবুজঘেরা পরিবেশের মধ্যে দিয়ে সেই ট্রাম সফর অত্যন্ত মনোগ্রাহী ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেটা তুলে দেওয়া হয়েছে।

আর ট্রামের সেই দুর্দশার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের তরফে মমতা সরকারের দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। ট্রামপ্রেমীদের দাবি, পরিবেশ-বান্ধব হওয়া সত্ত্বেও ট্রামকে কার্যত গলা টিপে হত্যা করে দিয়েছে মমতা সরকার। যে ট্রাম পরিষেবার সঙ্গে কলকাতার সম্পর্ক শুরু সেই ১৮৫৩ সাল থেকে। এশিয়ায় সবথেকে পুরনো সচল ট্রামও আছে কলকাতায়। কিন্তু ঢিমেগতির যানের দোহাই দিয়ে ট্রামকে লাটে তুলে দেওয়ার সবরকম বন্দোবস্ত মমতা সরকার করে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ট্রামপ্রেমীরা। তবে নতুন সরকার আপাতত যা বলেছে, তাতে আশার আলো দেখছেন তাঁরা।


